মোটিভেশনাল স্পিকারদের জন্য একজন সাধারণ ফেসবুকারের মোটিভেশনাল স্পিচ

১৫৯৮ পঠিত ... ২০:১২, আগস্ট ০৯, ২০১৮

এই যে মোটিভেশনাল স্পিকার বন্ধু, হ্যা তোমাকেই বলছি। আজ তোমার সময়টা বড্ড খারাপ। যে সংকটময় পরিস্থিতিতে আজ তুমি এসে দাঁড়িয়েছ তা থেকে উত্তরণের জন্য তোমাকে যে জিনিসটা শক্ত করে ধরতে হবে তার নাম ধৈর্য্য। ছাত্ররা তোমার মোটিভেশনাল স্পিচের দাম দিচ্ছেনা বলে একদম ভেঙ্গে পড়বা না৷ মনে রাখবা জন্ম, মৃত্যু আর ট্রল জীবনেরই একটা অবিচ্ছেদ্য অংশ। আজ তোমার মোটিভেশনকে জ্বালিয়ে এই সোশ্যাল মিডিয়া যে ট্রলের আগুন ধরিয়েছে, ইতিহাস বলে বহু মহামানব তাদের জীবনের একটা পর্যায়ে এই ট্রলের আগুনে পুড়েছে। তারপর পুড়ে পুড়ে একসময় পরিনত হয়েছে খাটি কয়লায়।

আজ আমি তোমাকে হিরো আলম নামের একজন মানুষের গল্প শোনাবো। শোনাবো মাহফুজুর রহমানের গল্প। কেকা ফেরদৌসীর গল্প। কান হেলালের গল্প। সেফাত উল্লাহর গল্প। এদের প্রত্যেককে নিয়েই ফেসবুকে অগুনতি ট্রল করা হয়েছে। কিন্তু তারপরও এরা কেউ থেমে থাকেনি। এরা সবার চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে তোমরা যতই ট্রল করার চেষ্টা করো না কেন আমরা থামবো না৷ আমরা আমাদের কাজ করে যাবোই৷ আর আজ দেখ এই প্রত্যেকটি মানুষ নিজ নিজ কার্যক্ষেত্রে পরিনত হয়েছে একেকজন লিজেন্ডারি হাসির পাত্রে। পরিনত হয়েছে একেকজন সফল জোকারে।

সুতরাং সময় বদলাবেই। তুমি শুধু তোমার কাজটা করে যাও। যতই ঝড় ঝাপ্টা আসুক তুমি তোমার মোটিভেশনের ইঞ্জিন বন্ধ করবা না। সামনে এগিয়ে যেতে থাকো। সাধারণ মানুষকে ধরে বেধে জোর করে যেকোনো পদ্ধতিতে দিতে থাকো মোটিভেশন। কেউ গালি দিলে তাকে পাল্টা গালি না দিয়ে, কেউ আঘাত করলে তাকে পাল্টা আঘাত না করে তার দিকে ছুড়ে দাও পাত্রভর্তি মোটিভেশনাল স্পিচ। হাল ছেড়ো না। সময় বদলাবেই। 

আজ ফেসবুক সেলিব্রেটি বলে লোকে তোমাকে পাত্তা দিচ্ছে না। কাল হয়তো এই ফেসবুক সেলিব্রেটিরাই হবে সমাজের সবচাইতে সম্মানীয় জনগন। ফেসবুক সেলিব্রেটির গাড়ী যাওয়ার জন্য রাস্তায় আলাদা লেন হবে, হোটেলে হোটেলে ফেসবুক সেলেব্রেটিদের জন্য রান্না হবে বিশেষ খাবার, ফেসবুক সেলেব্রেটিদের পোশাকে থাকবে অসংখ্য তারকা, মেয়ের বাবারা বিয়ের পাত্র হিসাবে খুজবে একজন ফেসবুক সেলেব্রেটি। টাকার বদলে সেদিন লাইক আর কমেন্ট দিয়ে কাচাবাজার থেকে ক্রয় করা যাবে দুই আটি পালং শাক। তুমি মোটিভেশনাল স্পিচ দিয়ে ফেসবুকে যে ছয় ডিজিটের লাইক আর কমেন্ট আয় করেছ সেটা ভাঙ্গিয়ে তুমি সেদিন ইচ্ছামত দোকান থেকে কাঠি লজেন্স কিনে খেতে পারবে।

আজ এ পর্যন্তই। পরিশেষে শুধু একটা কথা বলতে চাই যে এখনই উঠে দাড়াও, স্মার্টফোন অন করো, কীবোর্ড খুলে লিখে ফেলো একটি মোটিভেশনাল স্ট্যাটাস। পোস্ট করে দাও ফেসবুকে। আমাদের জীবনটা খুব ছোট। এই ছোট জীবনে ফেসবুক সেলেব্রিটি হিসাবে নিজেকে এমনভাবে গড়ে তোলো যে 'তুমি মারা গেছো' এই স্ট্যাটাসে ৫কে লাইকস এবং ২কে শেয়ার পড়ে। আর সফলতার প্রকৃত সংজ্ঞা তো এটাই। ধন্যবাদ।

(পূর্বে রস+আলোতে প্রকাশিত)

১৫৯৮ পঠিত ... ২০:১২, আগস্ট ০৯, ২০১৮

আরও eআরকি

পাঠকের মন্তব্য

 

ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।

কৌতুক

গল্প

রম্য

সঙবাদ

সাক্ষাৎকারকি

স্যাটায়ার


Top