যে ১০টি কারণে মিরপুরবাসীদের শ্রদ্ধা করবেন

২১৬১৩পঠিত ...২০:৫৬, জুলাই ২৩, ২০১৮

মিরপুর, ঢাকার একটি জনবহুল এলাকা। রাজধানীর প্রচুর মানুষ বাসে করেন মিরপুর এলাকায়। জলাবদ্ধতা, রাস্তা খোড়াখুড়ি, মেট্রোরেল নির্মাণকাজ এবং অসহ্য জ্যাম, মিরপুরবাসীদের প্রতিদিনের জীবনের সঙ্গী এই সব নাগরিক বিভীষিকা। আপনার পরিচিত যদি কোনো মিরপুরবাসী থাকে, আপনার অবশ্যই উচিত তাকে শ্রদ্ধা করা। কেন করবেন? eআরকির মিরপুর গবেষক দল শ্রদ্ধা কাপুরের ছবি ঘাটতে ঘাটতে প্রকাশ করেছে তাদের গবেষণা।

 

১#

প্রতিটি মিরপুরবাসীই অধ্যবসায়ে ছাড়িয়ে যাবেন রবার্ট ব্রুসকেও। দিনের পর দিন ঘন্টার পর ঘন্টা জ্যামে বসে থেকে যারা স্কুল/কলেজ বা কর্মস্থল থেকে বাসায় আসা যাওয়ার করেন, নিঃসন্দেহে তারাই দেশের সবচেয়ে অধ্যবসায়ী মানুষ।

 

২#

মিরপুরবাসীরা মরুচারী বেদুইনদের মতো দুঃসাহসী। উঁচুনিচু মেঠোপথে আকাশ বাতাস এক করে ফেলা ধুলাবালির মধ্য দিয়ে তারা যেভাবে যাতায়াত করেন, মরুভূমির মরুঝড়ও তার কাছে কিছুই না।

 

৩#

মিরপুরবাসীরা প্রতিদিন উঁচুনিচু বন্ধুর পথে যাতায়াত করেন। মিরপুরের একেকটা রাস্তা যেন রাঙামাটির পাহাড়ি পথ। প্রতিদিনের জীবনযাত্রাই একেকটা বিপদশংকুল অ্যাডভেঞ্চারের মতো। মিরপুরবাসীদের আলাদা করে ট্রেকিং-এ যেতে হয় না। দৈনন্দিন জীবনই তাদের কাছে ট্রেকিং।

 

৪#

মিরপুরবাসীরা অত্যন্ত সহিষ্ণু। প্রতিদিন ঘরে ফেরার জন্য তারা হাজারো রিকশা এবং সিএনজি চালকের নিষ্ঠুর 'যাব না' সহ্য করেন। কখনো কখনো মিরপুরের ম শুনেই চালকরা না বলার প্রয়োজনও মনে করেন না, মুখ ঘুরিয়ে অন্য দিকে গাড়ি টান দেন। তবু মিরপুরবাসীরা একের পর এক যানবাহন খুঁজতে থাকেন। তাদের এই সহিষ্ণুতা যেন এই পরমত অসহিষ্ণুতার যুগে এক অনন্য নিদর্শন।

 

৫#

মিরপুরবাসীরা অত্যন্ত কম জায়গায় এডজাস্ট করতে সক্ষম। মিরপুরগামী সব বাসেই সারাদিন লেগে থাকে ভিড়। সিটের কথা বাদ দেন, দাঁড়ানোর কথাও বাদ দেন, বেশিরভাগ সময় বাসের দরজা ধরে ঝুলে থাকার জায়গাটুকুও পাওয়া যায় না। তবুও মিরপুরবাসীরা কী করে যেন বাসে চড়তে পারেন, হয়তো মসলিন কাপড়ের মতো সামান্য ম্যাচবাক্সের মতো জায়গাতেই ফিট হয়ে যেতে পারেন। সত্যিই, প্রতিটি মিরপুরবাসীই একেকটি জীবন্ত কিংবদন্তি!

 

৬#

প্রতিটি মিরপুরবাসীই মায়ে পেট থেকেই সাঁতার শিখে জন্মান। হয়তো এ কারণেই জাতীয় সুইমিং কমপ্লেক্সটি মিরপুরে অবস্থিত! মিরপুরবাসীরা প্রত্যেকেই জন্ম-সাতারু, না হলে সাঁতার কোর্স না করেও কী করে রাস্তাময় অগাধ জলরাশি ঠেলে বাড়ি পৌঁছান তারা, বলুন?

 

৭#

মিরপুর এমন এক এলাকা, যেখানে পুরো এলাকা জুড়েই মাটির নিচে লুকিয়ে আছে গুপ্তধন। সে কারণে বছরের পর বছর ধরে মিরপুরের প্রতিটি রাস্তা, প্রতিটি গলিতে চলেছে খোড়াখুড়ি, যা চলছে এখনো! মিরপুর যেন একটি ট্রেজার আইল্যান্ড। এমন স্বর্ণভূমির অধিবাসীদের কি শ্রদ্ধা না করে পারা যায়!

 

৮#

মিরপুরবাসীদের টিকে থাকার ক্ষমতা অতিমানবিক! জলাবদ্ধতা, ধুলো-কাদা, নোংরা-নর্দমা, ভাঙা উঁচুনিচু পথ, হাজার বছরের জ্যাম, প্রতিদিন এ সব কিছু সহ্য করেও তারা টিকে আছেন। টিকে থাকার লড়াইয়ে মিরপুরবাসীরা শ্রদ্ধা পেতে পারেন বিয়ার গ্রিলসের কাছেও!

 

৯#

শহরের যেকোনো জায়গা থেকে মিরপুর পৌঁছতে ঠিক কত সময় লাগতে পারে, তা আন্দাজ করে বলা শক্ত। এমন অনিশ্চয়তার জীবন মেনে নিয়েও মিরপুরবাসীরা প্রতিদিন কাজকর্ম করেন, স্কুলে-কলেজ ভার্সিটিতে যান। অনিশ্চয়তাকে সঙ্গী করেই যাদের সংগ্রামী জীবন, শ্রদ্ধা তো তাদেরই প্রাপ্য!

 

১০#

যারা গাড়ি চালিয়ে মিরপুর ফেরেন, তারা একই সঙ্গে চালক, নাবিক, এবং পাইলট হওয়ার যোগ্যতা রাখেন। কারণ মিরপুর যেতে কোথাও আপনি পাবেন জলপথ, কোথাও পাহাড়ি বন্ধুর পথ, আবার কোথাও দেখবেন কোনো রাস্তাই নেই!

২১৬১৩পঠিত ...২০:৫৬, জুলাই ২৩, ২০১৮

আরও eআরকি

পাঠকের মন্তব্য

 

    ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

    আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
    আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।

    কৌতুক

    গল্প

    সঙবাদ

    সাক্ষাৎকারকি

    স্যাটায়ার

    evolution22
    
    Top