বহিরাগত বলতে ভিসি সাহেব আসলে কী বুঝিয়েছিলেন?

৪৭৫পঠিত ...১৯:৪৫, জুলাই ১২, ২০১৮

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ গতকাল (১১ জুলাই) দাবি করে যে ‘বহিরাগতরা ক্যাম্পাসে ঢুকতে পারবে না’- এমন কথা তারা কখনই বলেনি। এছাড়াও, বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে “বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারের মাধ্যমে অশুভ শক্তিকে উৎসাহিত না করার জন্য” সংশ্লিষ্ট সবাইকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। অথচ তার ঠিক একদিন আগেই মানে ১০ জুলাই দৈনিক সমকালে প্রকাশিত খবরে জানা যায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মো. আখতারুজ্জামান বলেছেন, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অনুপ্রবেশ ঠেকাতে নিরাপত্তা চৌকি বসানো হবে। নিরাপত্তা চৌকিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা কর্মী দায়িত্ব পালন করবেন।

তাহলে মাননীয় ভিসি স্যার বহিরাগত বলতে ঠিক কী বোঝাতে চেয়েছিলেন? আমরাই কী তবে তাকে ভুল বুঝেছি? বহিরাগত বলতে আসলে কাদেরকে বোঝানো হতে পারে, সে গবেষণায় বসেছিল eআরকির একদল বহিরাগত আইডিয়াবাজদের দল! 

 

#১

প্রাথমিকভাবে দেয়া নোটিশটিয়ে বহিরাগত বলতে ঢাবি প্রশাসন বুঝিয়েছেন অন্য জগতের বাসিন্দা বা এলিয়েনদের। অ্যাভেঞ্জারস, ওয়ার অফ দ্যা ওয়ার্ল্ড, ইনডিপেন্ডেন্স ডে, স্ট্রেঞ্জার থিংস ইত্যাদি সিনেমা বা টিভি সিরিজ দেখে এ ধরণের উড়ে এসে জুড়ে বসা এলিয়েনদের তান্ডব কেমন হতে পারে, সেই বিষয়ে শঙ্কিত ছিলেন। আর এসব দুষ্ট এলিয়েনদের দমন করতে যদি অ্যাভেঞ্জার বা জাস্টিস লিগ চলে আসে তাহলে ভাংচুরের কারনে ভবনগুলো মেরামতের বাজেট পাওয়া দুষ্কর হবে।   তাই আগেই সাবধানতা অবলম্বন করার জন্য এই ঘোষণা দিয়েছিলেন।

#২

ভিসি সাহেব বহিরাগত বলতে অনাকাঙ্খিত প্রাকৃতিক দুর্যোগ বুঝিয়েছেন। ক্লাসের সময় যেন ঝড় বৃষ্টিতে শিক্ষার্থীরা উদাসী হয়ে লেকচারে মনোযোগ না দিয়ে জানালার বাইরে তাকিয়ে উদাস না হয়ে যায়, সে কারনে তিনি এই পদক্ষেপ নেয়ার কথা বলেছিলেন।

#৩

নোটিশটিতে আসলে বহিরাগত বানান ভুল ছিল। আসলে তা হওয়ার কথা ছিল ‘বহ্নিরাগত’। যেহেতু জ্বিন সম্প্রদায় আগুনের তৈরি, আর গাছপালায় ঘেরা ঢাবি ক্যাম্পাসে তারা সহজেই আস্তানা গড়তে পারেন। অহেতুক খারাপ জ্বিনের আছরে পড়ে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার যেন ব্যাঘাত না ঘটে, তাই তিনি এই ঘোষণা দিয়েছিলেন। ‘ছ্যাম্পল’ বানান ভুলের কারনে তা মানুষ ভুল বুঝে।

#৪

ভিসি সাহেব শিক্ষার্থীদের কল্যাণের জন্য সর্বদা সোচ্চার। আবাসিক হলগুলোতে ছারপোকা, মশামাছি ইত্যাদির সংক্রমনের কথা আর বিভিন্ন রোগবালাইয়ের জানতে পেরে তিনি এইসব অনাকাঙ্খিত পরজীবীদেরকে বহিরাগত ঘোষণা করে তিনি এই নোটিশ প্রদান করেছেন।

#৫

নিষিদ্ধ বস্তুর প্রতি মানুষের আকর্ষণ সবসময়ই একটু বেশি। আর বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় জনসমাগম যত বেশি হবে, ততই এর অভ্যন্তরীণ ছোট বড় ব্যবসাগুলো লাভজনকভাবে চলতে পারবে। চা, ফুচকা, শরবত এবং বিভিন্ন ভেষজ পণ্যের এসব ব্যবসা থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সংগঠন বা লীগের পৃষ্ঠপোষকতা হয়ে থাকে। কিন্তু ঢাকার জ্যাম ও অন্যান্য বিনোদনের স্থান বৃদ্ধি পাবার কারনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আগের মত জনসমাগম ঘটছে না। তাই সবাইকে ক্যাম্পাসমুখী করতে নেগেটিভ মার্কেটিং-পন্থা অবলম্বন করে ভিসি এই যুগোপযুগী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

#৬

স্কুল কলেজের গন্ডি পার হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে আসার পরেও অনেক বাবা মা তার সন্তানদের আগলে রাখতে চান। আর তাতে শিক্ষার্থীদের স্বাধীনতা খর্বিত হয়। তাই এই সিদ্ধান্ত আসলে শিক্ষার্থীদের বাবা মা যেন তাদের উপর ক্যাম্পাসে এসে খবরদারি করতে না পারেন, তাই এই ঘোষণা দেয়া হয়েছিল।

#৭


বহিরাগত বলতে আসলে জনসাধারনকে বোঝানো হয়নি, বরং eআরকির অনুসন্ধান ও গবেষক দলকে বোঝানো হয়েছে। ইদানিং আলোচনার শীর্ষে থাকা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে অনুসন্ধান চালানোর সময় ভিসির মুখোমুখি হলে তিনি অভিমানী কন্ঠে উচ্চস্বরে বলেন, ‘যত্তসব দুষ্টের দল, শুধু আমাকে নিয়ে পচা কথা ছাড়া আর কিছু লিখতে পারো না? eআরকি করো আমার সাথে? আজ থেকে তোমরা সবাই বহিরাগত!’ এবং এই ঘটনার পরপরই তিনি বহিরাগতদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেন।

#৮

৪৭৫পঠিত ...১৯:৪৫, জুলাই ১২, ২০১৮

আরও eআরকি

পাঠকের মন্তব্য

 

    ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

    আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
    আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।

    কৌতুক

    গল্প

    রম্য

    সঙবাদ

    সাক্ষাৎকারকি

    স্যাটায়ার

    evolution22
    
    Top