বিশ্বকাপে যদি বাংলাদেশের পাড়ার ফুটবলের নিয়মে খেলা হতো

১১৩৩পঠিত ...২০:২৬, জুলাই ১০, ২০১৮

বিশ্বকাপ ফুটবলে বাংলাদেশ এখনো না খেললেও, ফুটবলের জনপ্রিয়তা আমাদের দেশে কিছু কম নয়। শহরে ফুটবল খেলার জন্য প্রয়োজনীয় মাঠ না থাকার পরেও পাড়া-মহল্লায়, অলিতে গলিতে লম্বা গোল কিংবা আয়তাকার যেকোনো আকৃতির জায়গা বল কিংবা বলের মতো গোলাকার যেকোনো কিছু নিয়ে ছেলেরা নেমে পড়ে ফুটবল খেলতে। তবে আমাদের পাড়া-মহল্লার ফুটবলে অবশ্য ফিফা কিংবা আন্তর্জাতিক ফুটবলের নিয়ম-কানুনের কোনো বালাই নেই! ভাবুন তো, বিশ্বকাপে যদি খেলা হতো আমাদের পাড়ার ফুটবলের নিয়মে? ভাবতে বসেছিলো আমাদের পাড়া-মহল্লায় 'বেলুন-ডি-অর' জেতা eআরকির ফুটবল বিশেষজ্ঞ দল! 

১#

টিম ম্যানেজমেন্ট-ম্যানেজার কিংবা ভালো খেলোয়াড়? উচ্ছন্নে যাক সবাই, বল যার সেই ক্যাপ্টেন!

 

২#

বিশ্বকাপের কোন ম্যাচে হাফ টাইম ফুল টাইম বলে কিছু থাকবে না। এ ক্ষেত্রে মাগরিবের আজান না দেয়া পর্যন্ত একটানা খেলা চলতে থাকবে। তবে কোন কোন ক্ষেত্রে যে দল আগে তিন গোল দিতে পারে সেই দলকে জয়ী হিসেবে ঘোষিত করা হবে। অবশ্য তেমন হলে বাস পার্কিং দলগুলোর ম্যাচ শেষ হতে এক-দুই দিনও লেগে যেতে পারে।

 

৩#

প্রতি ম্যাচের আগেই দুই দলের খেলোয়াড়দের মতামত নিয়ে তুলনামূলক বিচক্ষণ একজনকে রেফারি হিসেবে নির্বাচিত করা হবে। অধিকাংশ সময়েই রেফারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন এলাকার কোন বড় ভাই কিংবা পাশের চায়ের দোকানের মামা।

 

৪#

অফসাইড বলে কোনো নিয়ম থাকবে না। বল গোলপোস্টে ঢুকলেই গোল। কেউ থ্রো-ইন করেও যদি সরাসরি বল জালে (যদি জাল আদৌ থাকে) পাঠাতে পারেন, সেটাও গোল হিসেবে গণ্য হবে।

 

৫#

আক্রমণের সময়ে কীসের ডিফেন্ডার কীসের কী, দলের সব খেলোয়াড়কেই ডি বক্সের (যদি সেরকম কিছু থাকে আর কি) ভেতরে দৌড়াদৌড়ি করতে দেখা যাবে!

 

৬#

গোলকিপার হিসেবে তুলনামূলক স্বাস্থ্যবান খেলোয়াড়টি নিয়োজিত হবেন! অবশ্য খুব বেশি দৌড়াতে না পারা দুবলা শরীরের কাউকে কাউকে বিভিন্ন দলের গোলরক্ষকের ভূমিকায় দেখা যাবে।

 

৭#

যদি কোনো কারণে প্রতি দলে পুরো ১১ জন খেলোয়াড় না থাকে, তাহলে মাঠের আয়তন এবং গোলবারের দৈর্ঘ্য কমানো হবে। সাধারণত গোলবারের উচ্চতা কমিয়ে কোমর সমান উচ্চতায় নিয়ে আসা হবে। সেই ক্ষেত্রে গোলকিপার পজিশনে দলের খাটো খেলোয়াড়দের গুরুত্ব বেড়ে যাবে!

 

৮#

যে বল মাঠের বাইরে মারবে, তাকেই বল আনতে যেতে হবে!

 

৯#

ফুটবল না থাকলে টেনিস বল, বোতল এমনকি ক্ষেত্র বিশেষে বোতলের ক্যাপ দিয়েও বলের কাজ চালানো যাবে! একেবারেই কিছু না পেলে কিছু সাদা কাগজ দলাকৃতির করে স্কচটেপ পেঁচিয়ে বল হিসেবে ব্যবহার করার ব্যবস্থা থাকবে। সেক্ষেত্রে ‘হাত গোলকি’র বদলে ‘পা গোলকি’ থাকবে।

 

১০#

ইয়েলো কার্ড-রেড কার্ড বলে কিছু নাই। এর বদলে আছে ‘ওয়ার্নিং সিস্টেম।’ বিষয়টা অনেকটা এরকম যে, কোন খেলোয়াড় ফাউল করলে বা অশোভন আচরণ করলে তাকে একবার ‘ওয়ার্নিং’ দেয়া হবে। কেউ দুইবার ওয়ার্নিং খেলেই সে খেলা থেকে বাদ পড়বে! অবশ্য কমিটির টিম হলে ওয়ার্নিং দেয়ার ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন করা হবে।

 

১১# 

সেমিফাইনাল, ফাইনাল ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মাঠ এবং মাঠের বাইরে নিজ নিজ দলের পেশীশক্তির প্রদর্শন দেখা যাবে। বিশেষ শো ডাউনের মাধ্যমে দলগুলো জানিয়ে দেবে, ম্যাচটি হেরে গেলে কী কী হতে পারে।

 

১২# 

ফাইনালের প্রধান অতিথি হিসেবে থাকবেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং সরকারি দলের কর্তাব্যক্তিরা। বিশ্বকাপের সকল খরচ নেয়া হবে ভেন্যুর আশেপাশের সব বাড়িওয়ালা এবং ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে। প্রাপ্ত টাকার একটি অংশ কমিটি হজম করে, বাকি টাকা দিয়ে একটি ১৯ ইঞ্চি রঙিন টিভি কেনা হবে, চ্যাম্পিয়ন দলের জন্য।যা কি না টুর্নামেন্ট শেষে কমিটির চেয়ারম্যানের বাসাতেই শোভা পাবে।

১১৩৩পঠিত ...২০:২৬, জুলাই ১০, ২০১৮

আরও eআরকি

পাঠকের মন্তব্য

 

    ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

    আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
    আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।

    কৌতুক

    গল্প

    রম্য

    সঙবাদ

    সাক্ষাৎকারকি

    স্যাটায়ার

    evolution22
    
    Top