যেসব কারণে বাংলাদেশ ফিফা র‍্যাংকিংয়ে ক্রোয়েশিয়া ও পানামার চেয়ে পিছিয়ে পড়ল

১০৫০পঠিত ...২২:১৬, জুলাই ০৮, ২০১৮

১৯৯৩ সালে প্রকাশিত প্রথম ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের অবস্থান ছিলো ১১৬ নম্বরে। একই সময়ে এবারের বিশ্বকাপে অংশ নেয়া ক্রোয়েশিয়া এবং পানামার র‍্যাঙ্কিং ছিলো যথাক্রমে ১২২ আর ১৩২! পানামা এখনো কোন পরাশক্তি হয়ে উঠতে না পারলেও, ইউরোপিয়ান ফুটবলে ক্রোয়েশিয়া এখন বেশ গুরুত্বপূর্ণ দল। পানামা বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিলেও, ক্রোয়েশিয়া গ্রুপ পর্বের সব ম্যাচ জিতে পুরো ৯ পয়েন্ট নিয়েই সেকেন্ড রাউন্ডে উঠে। তিন ম্যাচের একটি ছিল আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে ৩-০ গোলের জয়। মড্রিচ, রাকিটিচ, মান্দজুকিচ, পেরিসিচের মত তারকাখচিত দলটা বিশ্বকাপের সেমি ফাইনাল পর্যন্ত চলে এসেছে।

ইউরোপ-আমেরিকার দলগুলোই শুধু নয় প্রতিবেশী দেশ ভারত ১৯৯৩ সালে ফিফা র‍্যাংকিং এ ছিল ১০০তম দল। এরপর বাংলাদেশের মতই তারা নেমেছে দিনের পর দিন। ২০১৪ সালেও ভারত ফিফা র‍্যাংকিংয়ে ছিল ১৭১ আর বাংলাদেশ ছিল ১৬৫ তে। গত চার বছরের ব্যবধানে ভারত আজ ফিফার ৯৭তম দল আর বাংলাদেশ? ফিফা র‍্যাংকিংয়ে বাংলাদেশের অবস্থান এখন ১৯৪। গত বছর ১৯৭ হয়েও ডাবল সেঞ্চুরি একটুর জন্য স্পর্শ করতে পারেনি।

সব মিলিয়ে গত ২৫ বছরের র‍্যাঙ্কিং দেখে আপনার মনে প্রশ্ন জাগতেই পারে যে বাংলাদেশের কেন উন্নতি হচ্ছে না। মোটামুটি সব দলেরই র‍্যাঙ্কিংয়ে উন্নতি হলেও বাংলাদেশের গ্রাফটা বেশিরভাগ সময়েই নিম্নমুখী। কিন্তু কেন? eআরকির ফুটবল গবেষণা দলের কয়েকজন সদস্য মাসরুর সাদীদের নেতৃত্বে খুঁজে বের করেছে কারণগুলো। দেখে নিন বাংলাদেশ দল যে সব কারণে ফিফা র‍্যাংকিংয়ে নিচেই থেকে যেতে চাচ্ছে।

১# এবারের বিশ্বকাপে ৩২টি দেশের মধ্যে ৯টি দেশেরই র‍্যাঙ্কিং ৩২এর বাইরে। ক্লাসে রোল সামনের দিকে থাকলেও সবাই যেমন পাবলিক ভার্সিটিতে চান্স পায়না তেমনি র‍্যাঙ্কিং সামনে থাকলেই সবাই বিশ্বকাপ খেলতে পারে না। নেদারল্যান্ডস চিলি ইতালির মত দলগুলো এবার তাই প্রমাণ করলো! বাংলাদেশ নিশ্চয়ই ইতালি আর নেদারল্যান্ডসের মতো এমন ভুল করতে পারে না।


২# বাঙালি মাত্রই বেশি বেশি চায়। ভাড়া দেওয়ার পর রিকশাওয়ালা বলে 'মামা ৫টা টাকা বাড়ায় দিয়েন', সিএনজি ড্রাইভার বলে ‘মিটার থেকে ২০ টাকা বেশি দিয়েন’। এমনকি মোবাইল অপারেটরগুলোও অফার দেয় বেশি বেশি। আমাদের কি আর কম দিয়ে চলে? আমাদের র‍্যাংকটাও তাই অনেক বেশি।

৩# বিশ্বকাপে স্বাগতিক দেশকে কখনো বাছাইপর্বে খেলতে হয়না। শুধু তাই নয়, র‍্যাংক যতই হোক না কেন স্বাগতিক দেশ এমনিই বিশ্বকাপ খেলতে পারে। এখন যে হারে দেশের উন্নতি হচ্ছে, খুব শীঘ্রই আমরা বিশ্বকাপ ফুটবল আয়োজন করবো। তাই র‍্যাংকিং নিয়ে আমাদের খুব একটা মাথাব্যাথা নেই।

৪# আমরা দুর্নীতি, পরিবেশ দূষণ সহ এতকিছুতে র‍্যাঙ্কিংয়ে ওপরের দিকে ছিলাম যে ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ের মত ছোটখাটো বিষয় নিয়ে আমরা মাথা ঘামাই না। সময়মত ঠিকই আমরা কাপটা নিয়ে আসবো।

 

৫# ক্রিকেটের টেস্ট ভার্শনে আমাদের বর্তমানে তিনটি ডাবল সেঞ্চুরি থাকলেও ফুটবলে আমাদের কিছুই নেই। এই খেলাটির জেল্লা ফিরিয়ে আনার জন্যে বাফুফে র‍্যাংকিংয়ে ডাবল সেঞ্চুরি করার সুপ্রচেষ্টা চালাচ্ছে।

৬# বাংলাদেশ বর্তমানে উন্নয়নশীল একটি দেশ হিসেবে প্রায় স্বীকৃতি পেয়ে গেছে। সুখে থাকা, হাসিমুখে থাকা ইত্যাদি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সূচকে বাংলাদেশের মান ধীরে ধীরে বাড়ছে। তাহলে ফিফা র‍্যাংকিংয়ে কেনো নয়?

১০৫০পঠিত ...২২:১৬, জুলাই ০৮, ২০১৮

আরও eআরকি

পাঠকের মন্তব্য

 

    ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

    আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
    আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।

    কৌতুক

    গল্প

    রম্য

    সঙবাদ

    সাক্ষাৎকারকি

    স্যাটায়ার

    evolution22
    
    Top