নারীদের গুরুত্বপূর্ণ ১১টি আবিষ্কার

৬৭৪পঠিত ...২০:২১, মার্চ ০৮, ২০১৮

যে রাঁধে, সে চুলও বাঁধে- বঙ্গদেশীয় নারী সম্বন্ধে আমাদের কথাবার্তাগুলো কেনো যেনো শুধু এই দুয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। কিন্তু দুনিয়ার সব নারী এমন চিন্তায় আবদ্ধ হয়ে ছিলেন না। পৃথিবীজুড়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কারের সাথে জড়িয়ে আছে নারীদের নাম। আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষ্যে এমনই ১১ টি আবিস্কারের গল্প থাকছে eআরকি পাঠকদের জন্য।

 

১. মনোপলি

ছোটবেলায় ‘ধনী হবার মজার খেলা’ বা মনোপলি খেলেননি এমন মানুষ খুব কমই আছেন। আপনি জানেন কি মনোপলি খেলাটি আবিষ্কার করেছিলেন একজন নারী? ১৯০৪ সালে এলিজাবেথ ম্যাগী নামের জনৈকা মার্কিন নারী পুজিবাদকে কটাক্ষ করে তৈরী করেন ‘The Landlord’s Game’, যা পরবর্তীতে মনোপলি নামে পরিচিত হয়। 

 

২. আধুনিক রেফ্রিজারেটর বা ফ্রিজ 

নিত্যদিনের সঙ্গী আধুনিক ফ্রিজ কিন্তু একজন মেয়েরই আবিষ্কার। ১৯১৪ সালে মার্কিন তরুণী ফ্লোরেন্স পারপার্ট আবিষ্কার করেন আধুনিক বৈদ্যুতিক ফ্রিজ। বিদুষী এই নারী আরও আবিষ্কার করেন রাস্তা পরিষ্কার করার যন্ত্র, যা তিনি নিজেই পুরো আমেরিকায় বিক্রি করেছেন।

 

৩. আইসক্রিম বানানোর যন্ত্র

‘মালাই, মালাই, কুলফি মালাই!’ অথবা আইসক্রিম কার না ভালো লাগে? আর এই বাসাবাড়িতে আইসক্রিম বানানো যন্ত্র আবিষ্কারের পেটেন্ট একজন নারীর। ১৮৪৩ সালে আমেরিকার ন্যান্সি জনসন আবিষ্কার করেন এই যন্ত্র।

 

৪. সিসিটিভি

Closed Circuit Television বা CCTV আজকের দিনে খুব পরিচিত একটি শব্দ। এই সিসিটিভির আবিষ্কার হয়েছিলো আফ্রিকান-আমেরিকান ম্যারি ভ্যান ব্রিত্তান ব্রাউন এর হাতে ১৯৬৯ সালে। দুনিয়ার তাবৎ অপরাধীরা নারী বিদ্বেষী হতেই পারেন, কারণ এ আবিষ্কারের পরে অপরাধীর পরিচয় সনাক্তকরণ হয়ে গেছে অনেক সহজ।

 

৫. কেভলার ফাইবার

নামটা খটোমটো শোনালেও আমরা নিত্য এই বস্তুর ব্যবহার শুনে থাকি। কেভলার নামক তন্তু থেকেই তৈরি হয় আধুনিক বুলেট প্রুফ জ্যাকেট। এই তন্তু ইস্পাত থেকে ৫ গুন বেশী শক্তিশালী। কেভলার আবিষ্কার করেন মার্কিন রসায়নবিদ স্টেফানি কোলেক।

 

৬. কম্পিউটার সফটওয়্যার

পৃথিবীর সর্বপ্রথম ব্যানিজিক কম্পিউটার সফটওয়্যার তৈরি করেন কম্পিউটার বিজ্ঞানী ডঃ গ্রেস মারে হুপার। তিনিই সর্বপ্রথম সফটওয়্যার এর প্রোগ্রামিং ভুলকে ‘বাগ’ নামে সম্বোধন করেন। মজার বিষয়, তিনি একই সাথে নেভীর একজন রিয়ার এডমিরালও ছিলেন।

 

৭. মেডিক্যাল সিরিঞ্জ

চিকিৎসা ব্যবস্থার একটি অপরিহার্য বস্তু হচ্ছে সিরিঞ্জ। ১৮৯৯ সালে লেটিশা মামফোর্ড গিয়ার এক হাতে নিয়ন্ত্রণ করা যায় এমন সিরিঞ্জ আবিষ্কার করেন। যা থেকে আজকের দিনের আধুনিক সিরিঞ্জের সূচনা হয়।

 

৮. ফায়ারস্কেপ অথবা অগ্নিতারন পথ

অগ্নি সংযোগের ঘটনা থেকে বাঁচতে যুগান্তকারী এই ব্যবস্থাটি আবিষ্কার করেন আনা কনেলি, ১৮৮৭ সালে।

 

৯. কল ওয়েটিং প্রযুক্তি ও কলার আইডি

কল ওয়েটিং প্রযুক্তি ও কলার আইডির মত অত্যন্ত কার্যকারী প্রযুক্তি আবিষ্কারের পেছনের মূল কারিগর একজন নারী। মার্কিন পদার্থবিদ শার্লি অ্যান জ্যাকসন ১৯৭০ সালের দিকে কিছু গবেষণা করেন যার ফলশ্রুতিতে আবিষ্কৃত হয় কল ওয়েটিং এর মত কার্যকারী প্রযুক্তি।

 

১০. উইন্ডস্ক্রিন ওয়াইপার

বৃষ্টির দিনে একটু পর পর গাড়ির গ্লাসের পানি না সরালে শয়ে শয়ে দুর্ঘটনা হত প্রতিদিন। দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহারের এই উইন্ডস্ক্রিন ওয়াইপার আবিষ্কার করেছেন আমেরিকার মেরি এন্ডারসন, ১৯০৩ সালে। যদিও তখন এই আবিষ্কার গাড়ি কোম্পানিগুলো খুব একটা ভালোভাবে নেয়নি, তাদের অভিযোগ ছিলো এগুলো চালকের মনোযোগ সরিয়ে দিবে। এখন উইন্ডস্ক্রিন ওয়াইপার ছাড়া গাড়ি কল্পনা করেই দেখুননা!

 

১১. ডিশ ওয়াশার

ভাবুনতো, খাবার পরে একটু আমোদ করবেন, একটু শুয়ে আরাম করবেন, তা না করেই আপনাকে ছুটতে হচ্ছে থালাবাটি ধুতে। এমন আমোদ প্রিয় মানূষের জন্য ডিশ ও্যাশার বা সয়ংক্রিয় থালা বাটি ধোয়ার যন্ত্র আবিষ্কার করেছেন জোসেফিন কশরেইন, ১৮৮৭ সালে।

৬৭৪পঠিত ...২০:২১, মার্চ ০৮, ২০১৮

আরও eআরকি

পাঠকের মন্তব্য

 

    ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

    আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
    আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।

    কৌতুক

    গল্প

    রম্য

    সঙবাদ

    সাক্ষাৎকারকি

    স্যাটায়ার

    evolution22
    
    Top