পাঁচ বছর জেলে বসে বেগম খালেদা জিয়া যা কিছু করতে পারেন

৩১৪৩ পঠিত ... ২০:০২, ফেব্রুয়ারি ০৯, ২০১৮

আদালতের রায় আপিলের পরও বহাল থাকলে এই মুহুর্তে খালেদা জিয়ার সামনে পাঁচ বছর জেলে কাটানো ছাড়া আর কোনো পথ নেই। তবে জেলে বসেও যে ইতিবাচক কিছু করা যায় না, তা তো নয়! জেলে বসে অনেকেই পরীক্ষা দিয়েছেন, রচনা করেছেন গল্প-উপন্যাস, আরও নানান কিছু। আর যেহেতু খালেদা জিয়ার কক্ষে ডিশের লাইন দেয়া হয়েছে, নিশ্চয় তিনি পৃথিবী সম্পর্কেও সম্যক ধারণা রাখতে পারবেন। তাই জেলে বসে এই দীর্ঘ অবসর কী কী কাজে লাগাতে পারেন, জেলে যাওয়ার রিস্ক নিয়ে eআরকি ডেস্কে বসে তা ভেবেছে eআরকির কারাগার বিশেষজ্ঞ দল! 

১. বিএনপি সরকারের আমলে ছাগল পালন নিয়ে প্রচারণা কিছু কম তো চলেনি। কিন্তু বেগম জিয়া কি কখনও করেছেন ছাগল পালন? (উই আর নট টকিং এবাউট তারেক) না করে থাকলে এই তো সুযোগ! জেলে বসে তিনি বেশ স্বাচ্ছ্যন্দে পেলে ফেলতে পারেন এক বা একাধিক ছাগল! পাঁচ বছরে তিনি জেলখানাতে বসেই মালিক হয়ে যেতে পারেন মস্ত বড় এক ছাগলের খামারের! যেহেতু জামায়াত আর বিএনপির সঙ্গে নেই, নতুন এক ছাগলের খামার বিএনপির প্রয়োজন হতেই পারে!

২. যেহেতু রাজনৈতিক ক্যাচালে বেগম জিয়া পড়ালেখার বিশেষ সুযোগ পান নি, খুব বোর লাগলে তিনি তিরিশ দিনে ইংরেজি শিখুন ধরণের কোন একটা বই খুঁজে নিয়ে পড়া শুরু করে দিতে পারেন। এমনকি এসব বই পড়ে সত্যিকারেই তিরিশ দিনে ইংরেজি শিখে ফেলা যায় কি না তাও পরীক্ষা করে দেখতে পারেন। তবে এক মাসে শেখা না গেলেও তো ক্ষতি নেই, বেগম জিয়া ত্রিশ ইনটু পাঁচ অর্থাৎ ১৫০ মাস সময় তো পাচ্ছেনই!

৩. যেহেতু শুধু বিটিভি নয়, খালেদা জিয়ার কক্ষে ডিশের লাইনই দেয়া হবে, তাই এই দীর্ঘ অবসরে খালেদা জিয়া দেখে ফেলতে পারেন একগাদা বাংলা সিনেমা! সিনেমা দেখা ছাড়াও সিনেমা নিয়ে তিনি গঠনমূলক সমালোচনা করা শুরু করতে পারেন, হয়ে যেতে পারেন ফিল্ম ক্রিটিকও!

৪. জেল থেকে বেরিয়ে রাজনৈতিক ক্যারিয়ারকে আরও সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে এই অবসর সময়ে বেগম জিয়া করতে পারেন কিছু একাডেমিক পড়ালেখাও! দ্রুতই তিনি উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং এইচএসসি পরীক্ষা দু’টা দিয়ে ফেলতে পারেন। আর প্রশ্নপত্র তো ইন্টারনেটে পাওয়া যাবেই...

৫. কারাগার থেকে বের হওয়ার পর বেগম জিয়ার বিদেশ গমনের বিশেষ প্রয়োজন হতেই পারে! সেজন্য এখনই জেলে বসে উচ্চশিক্ষার জন্যে আইইএলটিএস পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে পারেন।

৬. যদি দেশেই থাকবার ইচ্ছা থাকেই, তবে বিসিএসের প্রস্তুতি হিসেবে প্রত্যেকদিন দশ পাতা জেনারেল নলেজ পড়তে পারেন। পাঁচ বছরের পিপারেশন বিসিএস পাওয়ার জন্য খুব একটা খারাপ না নিশ্চয়!

৭. কারাগারে ওয়াইফাই লাইন থাকলে, ইউটিউবিং আর ফেসবুকিং করেই তিনি হয়ে যেতে পারেন মোটিভেশনাল স্পিকার! অন্য কারো কাজে না লাগলেও, বর্তমানে বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতাদের আগামী পাঁচ বছরে সেটির বেস ভালোরকমই দরকার হবে বলে আমাদের আশঙ্কা!

৮. যেহেতু তিনি আদর্শ হিসেবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে বেশ মানেন (!), এতটাই মানেন যে জন্মদিন পালনের ব্যাপারেও বঙ্গবন্ধু সংক্রান্ত একটি তারিখ তিনি সবসময় ফলো করে এসেছেন, তাই তাঁকে আরও একটু ফলো করে বেগম জিয়া কারাগারে বসেই আত্নজীবনী লেখা শুরু করে দিতে পারেন। আমরা আশা করি, তা অসমাপ্ত থাকবে না কোনোভাবেই!

৩১৪৩ পঠিত ... ২০:০২, ফেব্রুয়ারি ০৯, ২০১৮

আরও eআরকি

পাঠকের মন্তব্য

 

ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।

কৌতুক

গল্প

রম্য

সঙবাদ

সাক্ষাৎকারকি

স্যাটায়ার


Top