প্রতিদিনের ট্রাফিক জ্যামের দীর্ঘ সময়গুলো কাজে লাগাতে ২৯টি টাটকা টিপস!

২৮৮২পঠিত ...১৮:১২, ফেব্রুয়ারি ০৭, ২০১৮

আপনি কি ঢাকা বা বাংলাদেশের কোনো ব্যস্ত শহরে থাকেন? তাহলে ট্রাফিক জ্যাম যে আপনার প্রতিদিনের জীবনের অন্যতম অনুষঙ্গ, এতে নিশ্চয়ই কোনো সন্দেহ নেই! দিনের বেশিরভাগ সময়ই আমাদের কাটাতে হয় বাসে কিংবা গাড়িতে, জ্যামে বসে। এই সময়গুলোকে আরও সুমধুর এবং সহনীয় করে তুলতে কী কী পদক্ষেপ নেয়া যায়? কী করে ঢাকা শহরের এই তুমুল ট্রাফিকে সময় বাঁচাবেন? আইডিয়ার বস্তা নিয়ে হাজির eআরকি!

১। লোকাল বাসের সিটে পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় ঠিকমত বসে থাকা যায় না। দীর্ঘক্ষণ বসে থাকলে শরীরের নানা জায়গায় ব্যথা হতে পারে। অনেকক্ষণ জ্যামে বসে থাকা যাত্রীর ঘাড়, মাথা, হাত-পায়ে মাসাজ করে দেয়ার জন্যে ফ্রি মাসাজ সার্ভিসের ব্যবস্থা রাখা যেতে পারে।

২। জ্যামে বসে থাকা সকল যানবাহনে মোটিভেশনাল স্পিচ চালানো আইন করে বাধ্যতামূলক করে দেয়া উচিত। সেক্ষেত্রে ফেসবুক বা সোশ্যাল মিডিয়ায় হিটে থাকা মোটিভেশনাল স্পিচ প্রাধান্য পেতে পারে। জ্যাম অন তো সুখ-অন!

৩। স্ন্যাপচ্যাটের মতো একটা অ্যাপ বানানো যায়। যাতে একই এলাকায় জ্যামে থাকা সবাই গ্রুপ/ইনডিভিজুয়াল চ্যাট করতে পারে। ঢাকার সব রাস্তায় অনেকগুলো পয়েন্ট থাকবে, সেসব পয়েন্টের ২০০ মিটার রেডিয়াসের মধ্যে সবাই চ্যাট করতে পারবে।

৪। বাসের ভেতরে হাজার বছরের বাঙালী সংস্কৃতির অংশ সাপ খেলা কিংবা বানর নাচ দেখানোর ব্যবস্থা রাখা যেতে পারে।

৫। সবাইকে হস্তশিল্পে আগ্রহী করে তুলতে (ঐটা না, আসলটা) জ্যামে বসে থাকা সবাইকে দিয়ে উল দিয়ে সোয়েটার, গ্লাভস বুনিয়ে নেয়া যেতে পারে। এমনকি যাত্রীদের দিয়ে নকশী কাঁথাও সেলাই করে ফেলা যায়। এমনিতেও আড়ং-এ এসবের অনেক দাম রাখে।

৬। জ্যামে পড়লে প্রেমিক/প্রেমিকার সাথে আলাপ করার জন্য ফ্রি মিনিট দেয়া যেতে পারে। বাসের ড্রাইভারের হয়ত একটা প্রোমো জেনারটের অ্যাপলিকেশন থাকতে পারে, বাস জ্যামে পড়লে ড্রাইভার সব যাত্রীকে প্রোমো কোড দিয়ে দিবে। সেই কোড দিয়ে ৫-৬০ ফ্রি মিনিট পাওয়া যাবে কথা বলার জন্য।

৭। ঢাকার রাস্তায় লাইভ টেম্পল রান খেলার ব্যবস্থা থাকতে পারে। নিয়মিত টুর্নামেন্ট আয়োজন করা যেতে পারে।

৮। বাসের ভেতর স্ক্রিনে পদ্মা সেতু নির্মাণের বিরাট কর্মযজ্ঞ লাইভ দেখানো যেতে পারে। শোনা যাচ্ছে, কিছুদিনের মধ্যেই নাকি দ্বিতীয় স্প্যান বসবে...

৯। বাসের ভেতর বিসিএস কোচিং করানো যেতে পারে। অন্তত কোচিং এর ক্লাস ভিডিও করে সেটা ইউটিউব থেকে স্ক্রিনে চালানো যেতে পারে।

১০। রুফটপ সুইমিংপুলের মত প্রতিটি বাসের ছাদে সুইমিংপুল বানানো যেতে পারে, যাতে জ্যামে থাকার সময় যাত্রীরা সাঁতার কেটে ব্যায়াম করতে পারে।

১১। সব বাসে জিম থাকতে পারে। প্রয়োজনে বিউটি পার্লার, স্যালুন এসবও থাকতে পারে। জিমের আয়তনের ৫৬%... আচ্ছা বাদ দেন, বুঝেনই তো!

১২। প্রতি বাসে দুটো করে টিভিতে একটায় খেলার চ্যানেল আরেকটায় ভারতীয় সিরিয়াল দেখানোর ব্যবস্থা রাখা যেতে পারে।

১৩। বাসে বাধ্যতামূলক নাট্যমঞ্চ থাকতে পারে যেখানে যাত্রীরা নিজেরাই অভিনয় করে নাটক মঞ্চায়ন করে ফেলবে। নাট্যরূপে ড্রাইভার আর নির্দেশনায় থাকতে পারে হেল্পার... 'ওস্তাদ বাঁয়ে পেলাস্টিক, হালকা ডাইনে চাপায়া...'

১৪। 'একটি বাড়ি একটি খামার' প্রকল্পের আওতায় পাইলট প্রজেক্ট 'একটি গাড়ি একটি খামার' করে সব বাসের ছাদে সবজি চাষ অথবা মুরগির ফার্ম দেয়া যেতে পারে। গরুর অনেক ওজন, রাখা যাবে কি না ভেবে দেখতে হবে। এমন হতে পারে- সকালে ভার্সিটি যাওয়ার সময় জনৈক মালিহা সিম গাছে পানি দিলো, বিকালে অফিস থেকে ফেরার সময় জয়নাল সাহেব লাউ এর মাচাটা শক্ত করে বেঁধে দিলো। সকালে মিসেস চৌধুরী মুরগীর ডিম কালেক্ট করে ড্রাইভারের কাছে জমা দিয়ে দিলো। আবার সন্ধ্যায় জ্যাকসন জসিম পোল্ট্রি ফিড দিয়ে দিলো।

১৫। বাসে কাঁচা শাক-সবজির বাজার থাকতে পারে। 'একটি গাড়ি একটি খাবার' প্রকল্প থেকে সবাই বাসের খামারেই চাষ করা শাক-সবজি ড্রাইভার হেল্পারের কাছ থেকে কিনে নিয়ে বাসেই কাটাকুটি করে ফেলতে পারবে। তাহলে ঘরে গিয়েই সরাসরি চুলায় রান্না বসিয়ে দেয়া যাবে। চপিং বোর্ড আর ছুরির ভাড়ার জন্য আলাদা টাকা দেওয়া লাগবে, নো ফ্রি লাঞ্চ।

১৬। বাসে লুডু খেলার ব্যবস্থা রাখা যেতে পারে। বোর্ডও থাকবে আবার লুডুস্টার অ্যাপও থাকবে।

১৭। বাসের যাত্রীরা নিজেরা নিজেরা দল গঠন করে ক্ল্যাস অফ ক্ল্যানস কিংবা, ক্ল্যাশ রয়্যাল কিংবা ফার্মভিল একসাথে খেলতে পারে।

১৮। 'বাংলাদেশে জ্যাম নাই, সোনার বাংলার রাস্তায় কখনো জ্যাম হতে পারে না' - ছাত্রলীগ সভাপতি এস এম জাকির হোসেনকে দিয়ে এই ভিডিও রেকর্ড করিয়ে বাসে চালিয়ে দেয়া যেতে পারে।

১৯। ঢাকায় বিভিন্ন পয়েন্টে সরকারি উদ্যোগে বিরিয়ানির দোকান খোলা যেতে পারে। কোনো এলাকায় জ্যাম লাগলেই সংশ্লিষ্ট বিরিয়ানির দোকানগুলো নিজস্ব তত্ত্বাবধানে নিজেদের ডেলিভারিম্যান দ্বারা সব যাত্রীকে ফ্রি বিরিয়ানির প্যাকেট দিয়ে আসবে।

২০। জ্যামে পড়ার সাথে সাথেই সব বাসে মেট্রোরেলের বিজ্ঞাপন ছেড়ে দিতে হবে এবং বার বার বলতে হবে 'মেট্রোরেল হয়ে গেলেই জ্যাম সমস্যার সমাধান হবে, আর মাত্র কটা দিন'। মেট্রোরেল হয়ে গেলে রাস্তা থাকবে, রাস্তায় গাড়ি থাকবে... কিন্তু রাস্তার গাড়িতে কোনো প্যাসেঞ্জার থাকবে না (কারণ সবাই আগেই ট্রেনে করে যে যার জায়গায় চলে গেছে, বাকিরা ট্রেনে ওঠার লাইনে দাঁড়ানো...

২১। বাসে বিজয়ে বাংলা টাইপিং শেখানোর উপর শর্ট-কোর্স করানো যেতে পারে। কোর্সের টপারদেরকে পুরস্কার দেয়া হবে বিজয় সফটওয়্যার এর ফুল ভার্সন, আনন্দ কম্পিউটার্সের পক্ষ থেকে আকর্ষণীয় গিফট হ্যাম্পার এবং আমাদের কাছে সব সময়কার মূল্যবান সম্পদ বই।

২২। '১৫দিনে গেম ডেভেলপার' প্রজেক্টের মত বাসে জ্যামে বসে থাকার প্যাসেঞ্জারদের জন্য '১৫ মিনিটে গেম ডেভেলপার' প্রজেক্ট নেয়া যেতে পারে! কারওয়ানবাজার থেকে বাংলামোটর আসতে আসতেই পুরো এক বাস গেম ডেভেলপার তৈরি হয়ে যাবে। হাই স্পিড ইন্টারনেট থাকলে গুলিস্তান যেতে যেতেই ফ্রিল্যান্সিং করে একেকজন অন্তত ২০০০ ডলার করে ইনকাম করে ফেলতে পারবে।

২৩। বাসে যারা অবিবাহিত থাকবে, অন্যরা ঘটকালি করে তাদের বিয়ে পড়িয়ে দিতে পারে।
ধরা যাক, দুটো অপরচিত ছেলে-মেয়ে উত্তরা থেকে বাসে উঠলো। বাড্ডার জ্যামে অন্যরা ঘটকালি করলো। রামপুরায় তাদের বিয়ে করিয়ে দিলো। পরে সেই দম্পতি মালিবাগে নেমে গেলো ৬ মাসের বাচ্চা কোলে।

২৪। 'ছাগল পালন কর্মসূচি' প্রকল্পটি আবার চালু করতে হবে। রাস্তায় আধা ঘন্টার বেশি সময় জ্যামে থাকলে ওই যাত্রীকে সরকার দুটো ব্ল্যাক বেঙ্গল গোট বা যমুনাপাড়ি রামছাগল ফ্রি দেবে।

২৫। সেলাই মেশিন প্রকল্প হাতে নেয়া যায়। আমরা গার্মেন্টস শিল্পে প্রসিদ্ধ, কিন্তু পর্যাপ্ত নিরাপত্তার অভাবে অনেক গার্মেন্টসই বন্ধ। বাসে প্রত্যেক সিটের সামনে সেলাই মেশিন বসানো থাকলে সবাই পার্ট-টাইম কাজ করতে পারবে, বৈদেশিক মুদ্রার অর্জন বাড়বে।

২৬। রিনিউয়েবল এনার্জি উৎপাদন করা যায়। প্রত্যেক সিটের নিচে প্যাডেল থাকবে। সবাই বসে বসে প্যাডেল চালাবে যা বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে এবং একটি ব্যাটারিতে মজুদ থাকবে। এই বিদ্যুতেই বাস চলবে, তেল-গ্যাস লাগবে না।

২৭। দুই পাশের সিটের মাঝখানে হাঁটার জায়গায় নেট লাগিয়ে ভ্রাম্যমাণ টেবিল টেনিস টুর্নামেন্ট আয়োজন করা যেতে পারে। একেক বাসে ১০ লাইনে ১০টা ম্যাচ চলবে।

২৮। বাসের ভেতরেই অফিস খুলে ফেলা যেতে পারে। সকালে অফিস যেতে আর বাসায় ফিরতে যতক্ষণ লাগবে, তাতে বাসেই কাজ শেষ হয়ে যাবে। অফিসে আর ঢুকতেই হবে না।

২৯। বাসের ছাদের উপর হাঁটার রাস্তা করে দেয়া যেতে পারে। কেউ বাসে না উঠে বাসগুলোর ছাদে হেঁটে বা লাফিয়ে লাফিয়ে গন্তব্যে পৌঁছবে!

২৮৮২পঠিত ...১৮:১২, ফেব্রুয়ারি ০৭, ২০১৮

আরও eআরকি

পাঠকের মন্তব্য ( ১ )

 

    ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

    আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
    আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।

    কৌতুক

    গল্প

    রম্য

    সঙবাদ

    সাক্ষাৎকারকি

    স্যাটায়ার

    evolution22
    
    Top