একটি শীতকালীন মোটিভেশনাল স্পিচ : এই শীতে তোমাকে গোসল করতেই হবে

৩৩০১পঠিত ...১৯:১৮, ডিসেম্বর ২৪, ২০১৭

আমার একটি স্পিচে আমি বলেছিলাম, ফেইলিওর ইজ দ্য পিলার অব সাকসেস। এরপর আমার এই উক্তিটা বেশ জনপ্রিয় হয়। কেন বলেছিলাম জানো? কারণ ব্যর্থ না হলে সফল হওয়া যায় না। হ্যাঁ, তুমি ঠিকই শুনেছো। সফল হতে হলে আগে ব্যর্থ হতে হয়।

বাথরুম থেকে বারবার ফিরে আসলেই ভেবো না সব শেষ হয়ে গেছে। আমি বিসিএসের ভাইভা বোর্ড থেকে চারবার ফিরে এসেছিলাম। এখন আমি আমার কোম্পানির ভাইভা স্পেশালিস্ট। কোম্পানির রিক্রুটমেন্টের প্রতিটা ভাইভা আমাকে ছাড়া হয় না। একদিন তুমিই হয়ে যাবে গোসলের প্রতিশব্দ। 

অলোয়েজ থিংক পজিটিভ। আজ বাথরুম থেকে ফিরে এসেছো। গোসল করতে পারো নি। কিন্তু এখানেও তোমার অর্জন আছে। তুমি অন্তত বাথরুমের দরজা পর্যন্ত গিয়েছিলে। ক'জন সেটা পারে? কাল তুমি ঠান্ডা পানির কলের সামনে দাঁড়াবে। এই দাঁড়ানোর শক্তিটা আজ তুমি অর্জন করেছো। তোমার ভেতরের গোসল করার আকাঙ্ক্ষাটাকে বের করে আনো। টান দিয়ে খুলে ফেলো সোয়েটার। সোয়েটার খোলার সাথে সাথে তুমি এক ধাপ এগিয়ে গেলে। এটাই অর্জন। প্রতিটা ছোট অর্জন যোগ করেই একটি শীতকাল, একটি গোসল, একটি সফল জীবন। 

সেদিন একটা ছেলে নক দিয়ে বলল, 'কাঁপন ভাইয়া, আমি সোয়েটার খুলে বেশিক্ষণ দাঁড়াতে পারিনি। বাথরুমের দরজার সামনেও যেতে পারিনি। এখন লেপের নিচে ঢুকে বসে আছি। আমি কি গোসল করতে পারবো?' 

কাম অন! এত ডিপ্রেসড হওয়ার তো কিছু নেই। লাইফ ইজ নট আ বেড উইথ লেপ। হিসাব করে দেখো, বছরে মাত্র দুই থেকে তিন মাস লেপ থাকে। বাকি মাসগুলোতে তুমি লেপ বাক্সে ভরে রাখো। সো, 'লেপ এর তলা' ইজ নট দ্য প্রবলেম। 

আমি যখন রেয়ারটেলে জব করতাম, আমাকে মাসে অন্তত একবার গোসল করতেই হতো। না ক্লায়েন্ট মিটিং এ নাকে হাত দিয়ে বসে থাকতো। আমার সম্পর্কে রিভিউ দিতো খারাপ। 

আমি কি করেছিলাম জানো, লেপ নিয়েই বাথরুমে যেতাম। তারপর লেপ খুলে গোসল করতাম। এটা পারতাম, কারণ আমি গোসল করলে ক্লায়েন্ট আমার সাথে মিটিং এ বসতে পারতো। আর আমার সিক্স ডিজিটের স্যালারি ডিপেন্ড করত এই মিটিংয়ের উপর। 

তোমাকে ভাবতে হবে, আজ গোসল করলে তুমি সিক্স ডিজিটের স্যালারির দিকে এক ধাপ এগিয়ে গেলে। মনে করবে, গোসল করে বের হলেই তোমাকে গার্ড অব অনার দেয়া হবে। লাল গালিচায় তুমি গোসল করে দাঁড়িয়ে আছো। চারিদিকে অজস্র সম্মান তোমার জন্য। নিজের ইমাজিনেশন পাওয়ার বাড়াও। দিস হেল্পস আ লট। 

মনে রাখবে, সৌভাগ্যের দরজা আর শীতকালে বাথরুমের দরজা অটোমেটিক খুলে যায় না। ধাক্কা দিয়ে খুলতে হয়। তাই লেপ নিয়েই উঠে দাঁড়াও। চলে যাও বাথরুমে দরজার সামনে। এক টানে লেপ খুলে ফেলে জোড়ে একটা লাথি দাও দরজায়। তোমার ভিতরের ব্রুসলিকে বের করে আনো। 

তুমিই পারবে গোসল করতে। ভেবে দেখো, তোমার যে প্রেমটা ব্রেকাপের পথে, সেটা আজই জোড়া লেগে যাবে। গোসল না করার ফলে তোমার স্কিনে প্রবলেমটা হয়েছে, সেটা আজই সেরে যাবে। মাথায় খুশকির কারনে সারাক্ষন যে তোমার মাথা কুটকুট করে, সেটা আজই বন্ধ হবে। তোমাকে গোসল করতেই হবে। উঠে দাঁড়াও। নিজের উপর বিশ্বাস রাখো। ভাবো, তোমার জীবনের শুধু একটা কাজই বাকি। শাওয়ারটা ছেড়ে পানির নিচে দাঁড়ানো। জাস্ট টেন মিনিটস।

৩৩০১পঠিত ...১৯:১৮, ডিসেম্বর ২৪, ২০১৭

আরও eআরকি

পাঠকের মন্তব্য

 

    ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

    আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
    আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।

    কৌতুক

    গল্প

    রম্য

    সঙবাদ

    সাক্ষাৎকারকি

    স্যাটায়ার

    evolution22
    
    Top