কোপেনহেগেন বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান পরীক্ষায় আসা প্রশ্ন এবং এর চমকপ্রদ উত্তর

৩০২৭২পঠিত ...১৫:২৯, জুলাই ২০, ২০১৬


পরীক্ষায় প্রশ্ন এলো : ব্যারোমিটারের সাহায্যে একটি বহুতল ভবনের উচ্চতা নির্ণয় করা যায় কীভাবে, বর্ণনা করো।

একজন ছাত্র উত্তর লিখল : ‘ব্যারোমিটারের মাথায় একটি দড়ি বাঁধতে হবে। এরপর এটি ভবনের ছাদ থেকে মাটিতে নামিয়ে দিতে হবে। এবার ব্যারোমিটারের আর দড়ির দৈর্ঘ্য যোগ করলেই ভবনের উচ্চতা পাওয়া যাবে।’

University-Exam


এ রকম সোজাসাপ্টা উত্তর দেখে রেগে গেলেন পরীক্ষক। ফলাফল হিসেবে ছাত্রটি ফেল করল। পরীক্ষায় ফেল করে ছাত্রটি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করল ফলাফল পুনঃনিরীক্ষণের। বিশ্ববিদ্যালয় একজন নিরপেক্ষ বিচারক নিয়োগ করল ব্যাপারটি মীমাংসা করার জন্য।

বিচারক দেখলেন, উত্তরটি একেবারে ঠিক; কিন্তু পদার্থবিজ্ঞানের কোনো ছোঁয়া এর মধ্যে নেই। তাই তিনি ব্যাপারটি মীমাংসার জন্য ঠিক করলেন, ওই ছাত্রকে ডাকবেন এবং তাকে ছয় মিনিট সময় দেবেন। এই সময়ের মধ্যে ছাত্রকে মৌখিকভাবে প্রশ্নটির এমন উত্তর দিতে হবে, যার সঙ্গে পদার্থবিজ্ঞানের মৌলিক নীতিগুলোর ন্যূনতম সম্পর্ক আছে।

যথাসময়ে ছাত্রটি এল। এসে চুপচাপ পাঁচ মিনিট কপাল কুঁচকে বসে বসে চিন্তা করতে লাগল। বিচারক তাকে সতর্ক করে দিলেন যে তার সময় শেষ হয়ে যাচ্ছে। ছাত্রটি বলল, তার কাছে কয়েকটি যথাযোগ্য উত্তর আছে, কিন্তু সে ঠিক করতে পারছে না যে কোনটা বলবে।

বিচারক তাকে তাড়াতাড়ি করতে বললে ছাত্রটি যেসব উত্তর দিল তা হলো:

‘প্রথমত, আপনি ব্যারোমিটারটি নিয়ে ছাদে উঠবেন। এরপর ছাদের সীমানা থেকে এটি ছেড়ে দেবেন এবং হিসাব করবেন মাটিতে পড়তে এর কতটুকু সময় লাগে। এরপর h=(0.5)*g*(t)^2 সূত্রটির সাহায্যে আপনি ভবনের উচ্চতা মাপবেন। কিন্তু ব্যারোমিটারটির দফারফা হয়ে যাবে।’

‘অথবা, রোদেলা দিন হলে প্রথমে ব্যারোমিটারের দৈর্ঘ্য মাপবেন। তারপর এটি দাঁড় করিয়ে এর ছায়ার দৈর্ঘ্য ও ভবনের ছায়ার দৈর্ঘ্য মাপবেন। শেষে অনুপাতের ধারণা ব্যবহার করে হিসাব কষলেই ভবনের উচ্চতা পেয়ে যাবেন।’

‘কিন্তু আপনি যদি এ ব্যাপারে আরও বিজ্ঞানমুখী হতে চান, তা হলে ব্যারোমিটারের মাথায় একটি সুতা বেঁধে প্রথমে মাটিতে, এরপর ভবনের ছাদে পেন্ডুলামের মতো দোলাতে থাকবেন এবং অভিকর্ষ বলের সংরক্ষণশীলতার কারণে T=2*P*sqrt(l/g) সূত্র থেকে ভবনের উচ্চতা বের করতে পারবেন।’

‘আর আপনি যদি একান্তই প্রথাগত ও বিরক্তিকর পথ অনুসরণ করতে চান, তা হলে প্রথমে ব্যারোমিটারটি দিয়ে ছাদের ওপরের বায়ুচাপ এবং এরপর মাটির ওপর বায়ুচাপ মাপবেন। বায়ুচাপের পার্থক্য মিলিবার থেকে ফুটে পরিণত করলেই ভবনের উচ্চতা পেয়ে যাবেন।’

‘কিন্তু, যেহেতু আমাদের সব সময় চিন্তাশক্তির ব্যবহার এবং বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি প্রয়োগের ওপর জোর দিতে হয়, সেহেতু নিঃসন্দেহে সবচেয়ে ভালো পদ্ধতি হবে ভবনের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পালনকারীর কাছে যাওয়া এবং তাঁকে বলা, “আপনি কি একটি সুন্দর ব্যারোমিটার পেতে চান? তা হলে আমি আপনাকে এই ব্যারোমিটারটি দেব। কিন্তু সে জন্য আপনাকে বলতে হবে এই বহুতল ভবনের উচ্চতা কত”।’

[ওয়েবসাইট থেকে অনূদিত। প্রচলিত গল্প অনুযায়ী ছাত্রটি ছিলেন নিলস বোর, ১৯২২ সালে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কারজয়ী প্রথম ডেনিশ বিজ্ঞানী।]

৩০২৭২পঠিত ...১৫:২৯, জুলাই ২০, ২০১৬

আরও

পাঠকের মন্তব্য

 

    ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

    আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
    আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।

    আইডিয়া

    গল্প

    সঙবাদ

    সাক্ষাৎকারকি

    স্যাটায়ার

    
    Top