একটি বাংলা নাটকের eআরকি রিভিউ : তুমি কিংবা ঘাসফুল

১৯১৬ পঠিত ... ০২:৩৫, জানুয়ারি ১০, ২০১৯

চরম উত্তেজনার মধ্য দিয়ে শেষ করলাম ৪০ মিনিটের নাটক 'তুমি কিংবা ঘাসফুল'। যদিও নামের সাথে নাটকের ২ পয়সার মিল নাই। অভিনয়ে ঘরের বড় ছেলে অপূর্ব, নাদিয়া নদী তাহসান ভাইয়ের এক্স বউ মিথিলা ভাবি।

হুট করে সকালে হোমপেজে একটা রিভিউ (পোস্ট) পেলাম, জব্বর একটা নাটক হয়েছে! তাই আগ্রহ নিয়ে ডাউনলোড করে দেখতে বসলাম (সকালে হোমপেজে ঢুকেই কার প্রোফাইল পিকচার দেখেছিলাম)।

প্রথমে দেখা যায় অপূর্ব ভাই গ্যারেজ কালারের একটা শার্ট পরা রেস্টুরেন্টে কাজ করছে। তার কলিগ জিজ্ঞেস করলে বলছে, দেশে যেতে হবে, তাই টাকা জমাতে ডাবল শিফট করছে। বুঝলাম না কিসের ডাবল শিফট, রেস্টুরেন্টে কাস্টমার তো দূরে থাক একটা মাছিও নাই।

এরপর মিথিলা ভাবি আসলো, কফি অর্ডার দিল। বড় ছেলে (অপূর্ব ভাই আর কি) কফি নিয়ে আসলো। মিথিলা ভাবি কফি খাচ্ছে, এমন সময় একটা কল আসলো। এতই জরুরি কল যে উনি টাকা ভরা মানিব্যাগ ভুলে টেবিলে রেখে চলে গেল।

বড় ছেলে মানিব্যাগ হাতে পেয়ে রেখে দিল, পরে মিথিলা ভাবি আসলে তাকে ফিরিয়ে দিল। শুরু হল বন্ধুত্বের খেলা!

এরপর হালকা বিচের পাড়ে ঘোরাঘুরি, তারপর বড় ছেলে বলল- 'আমি আগামি সপ্তাহে দেশে যাবো তাই ডাবল শিফট করছি'! ভাবি বলল, 'টাকা লাগলে আমাকে বইলো'।

তারপর বড় ছেলে দেশে যাওয়ার দিন খামে করে কিছু ডলার জোর করে ভাইয়ের হাতে গুজে দিল। ভাই দেশে গিয়ে একবার মিথিলা ভাবিকে কল দিল, তারপর থেকে গায়েব।

এরপর স্ক্রিনে ভেসে উঠলো- দেড় মাস পর!

একদিন রেস্টুরেন্টে বড় ছেলের সাথে আবারো মিথিলা ভাবির দেখা।

বড় ছেলে ভাবিকে দেখে বললো, 'তোমার সাথে আমার কিছু কথা আছে। আমি দেশে যাওয়ার পর আমার আম্মাজান আমাকে জোর কইরা হাঙ্গা দিলাইছে।'

ভাবি কষ্ট পাইলো। কষ্টের ঠেলায় ঠাটিয়ে এক থাপ্পড় মারলো ঘরের বড় ছেলেকে।

থাপ্পড়ের পর মিথিলা ভাবির খেলা শ্যাষ। আসলো নাদিয়া নদী।

অসুস্থ বড় ছেলে, তাকে সেবা করছে নাদিয়া। হোটেলের ভিত্রেই তাদের সুখের এই ঘর এই সংসার। বড় ছেলে চাকরি করে রেস্টুরেন্টে, কিন্তু বউ নিয়া আসছে বিদেশে, তাও দেড় মাসের ভিত্রে!

নাদিয়া জেনে যায় মিথিলা ভাবির কথা, তাই ভেতরে ভেতরে কষ্ট পেতে থাকে... আহা! কিন্তু কিছু বলে না।

শেষের দিকে একদিন বড় ছেলে মিথিলা ভাবির দেয়া টিশার্ট পরে নাদিয়াকে নিয়ে ঘুরতে যায়। বড় ছেলে আর নাদিয়া বিচের পাড়ে বসে আছে, আইসক্রিম খাচ্ছে, হঠাৎ আচমকা নাদিয়ার আইস্ক্রিম লেগে যায় মিথিলার দেয়া টিশার্টে।

বড় ছেলে রেগে যায় রেগে গিয়ে চিল্লায়ে বলে, তুমি জানো এই জিনিস কে দিছে? নাদিয়া বলে হুম আমি জানি, এরপর কান্না করতে করতে বিচে ঝাপ দিতে চলে যায়। বড় ছেলে তাকে ম্যারাথন দৌড় দিয়ে তাকে আটকায়, আটকানোর পরে নাদিয়া বলে, প্লিজ... আমি আর পারছি না, আমাকে মুক্তি দিয়ালাও পিলিজ...'!

বড় ছেলের আখেরি ফিনিশিং- আমি তোমাকে ভালবেসে ফেলেছি তুমি আমার অভ্যাস হয়ে গেছে... বুকে মাথা রেখে দেখো শুধু তোমার নামটাই শুনতে পাবা জান্টুশ...

তারপর খেলা শ্যাষ!

কি নাটক রে বাবা!

লেখা: আকাশ ডিক্যাপ্রিও

১৯১৬ পঠিত ... ০২:৩৫, জানুয়ারি ১০, ২০১৯

আরও

পাঠকের মন্তব্য

 

ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।

আইডিয়া

গল্প

সঙবাদ

সাক্ষাৎকারকি

স্যাটায়ার


Top