পত্রিকায় ছাপা স্বাস্থ্য টিপসগুলো যেমন হলে তা আমাদের অভ্যাসের সাথে মিলে যেত

১২৬৩ পঠিত ... ১৭:৪৭, সেপ্টেম্বর ০৯, ২০১৮

প্রতিদিন খবরের কাগজের লাস্ট কলামে, ম্যাগাজিনের পাতায় বা চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের আর্টিকেলে আমরা যেসব হেলথ টিপস দেখি, তার একশো পার্সেন্টই যায় আমাদের এই বর্তমান জেনারেশনের কাজকর্ম, খাওয়াদাওয়া আর অভ্যাসের সম্পূর্ণ বিপরীতে। আচ্ছা ব্যাপারটা যদি উল্টে গিয়ে আমাদের পক্ষে চলে আসতো, তাহলে কেমন হতো? চলুন ভেবে দেখি।


চোখের যত্নে স্মার্টফোন

বর্তমান জেনারেশানের তরুণ-তরুণীরা সারাদিন চোখের সামনে তাদের প্রিয় স্মার্টফোনটা ধরে থাকে। কেউ ফেসবুক চালায়, কেউ গেম খেলে, আবার কেউবা ইউটিউবে ভিডিও দেখে। আর এদের মা বাবারা শংকিত হয় তাদের আদরের সন্তানের চোখের ভবিষ্যতের কথা ভেবে। তবে আর নেই চিন্তার কোনো কারন; নেই কোনো শংকা।এমনটাই দাবি করেছেন 'ক্যালিফোর্নিয়া হেলথ ইনিস্টিটিউটে'র একদল গবেষক।

তারা জানান, মোবাইলের স্ক্রিন থেকে যে আলোকরশ্মি নির্গত হয় তা আসলে চোখের জন্য খুবই উপকারী। এই রশ্মিতে মজুদ থাকে ভিটামিন সি, মিনারেল এবং প্রোটিনের মতো প্রয়োজনীয় পুষ্টিগুণ যা দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধিতে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহন করে। উপরোক্ত গবেষকদল মোট দশ হাজার শিশুকে নিয়ে এক বছরব্যাপী একটি পরীক্ষা চালান। এর মধ্যে অর্ধেক শিশুকে সারাদিনফোনে গেম খেলতে দেয়া হয় আর বাকি অর্ধেক শিশুকে ফোন থেকে দূরে রাখা হয়। কয়েকবছর পর দেখা যায় ফোন চালানো শিশুদের চশমা গ্রহনের হার ফোন থেকে দূরে থাকা শিশুদের তুলনায় আটষট্টি পার্সেন্ট কম। 'ক্যালিফোর্নিয়া হেলথ ইনিস্টিটিউটে'র আই ডিপার্টমেন্টের হেড ডাঃ রোফেল ম্যাকরিন বিষয়টা সহজে বুঝানোর জন্য উদাহরণ দিতে গিয়ে বলেন, 'ধরুন আপনি প্রতিদিন যদি একটা আপেল এবং একটা করে কমলালেবু খান তাহলে তা আপনার চোখের জন্য যেটুকু উপকারী, ঠিক একঘন্টা ফোন টিপলে আপনি সমান ততটুকু উপকার পাবেন।' তিনি আরো যোগ করেন, 'ফেসবুক অ্যাপস চালালে আপনি এই ওয়েবসাইট থেকে 'ভিটামাটি এফ' পাবেন যা আপনার চোখের জন্য একগ্লাস দুধের সমান কার্যকরী।

তবে অপেরা মিনি বা ইউসি ব্রাউজারে ফেসবুকিং করলে এই বাড়তি উপকারটুকু পাওয়া যাবেনা বলেও তিনি জানান।

 

ক্যান্সারের ঝুকি কমাতে রাস্তার খাবার

রাস্তার খাবার বলতে আমরা চটপটি, ফুচকা, ভেলপুরি, ঝালমুড়ি, পেয়াজু, বেগুনী টাইপ খাবারগুলোকে বুঝি যা রাস্তার পাশে তৈরি এবং বিক্রি হয়। আমরা এতোদিন স্বাস্হ্যের জন্য এই খাবারগুলোকে ক্ষতিকর এবং প্রবল ঝুঁকিপূর্ণ হিসাবেই জেনে এসেছি। তবে আর নয়, সময় এসেছে পুরানো এইসব ধ্যান- ধারনা বদলানোর। চিকিৎসা বিজ্ঞান নিয়ে এসেছে এমন একটি সুসংবাদ যা শুনলে আপনি অবাক না হয়ে পারবেন না।

হ্যাঁ, ঠিকই শুনেছেন, এইসব রাস্তার খাবার নিয়মিত গ্রহণে আপনার ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুকি অন্যদের তুলনায় কমে যাবে ফরটি পার্সেন্ট। আমরা জানি এইসব স্ট্রিটফুডে এসে পড়ে রাস্তার সমস্ত ধুলাবালি। আর এইসব ধুলাবালিতেই থাকে 'ভিটামিন 'ধ'। যা ক্যান্সারের জীবাণু ধ্বংসে বেশ কার্যকরী বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে। এই 'ভিটামিন ধ' জিনিসটা আসলে কি জানতে চাওয়া হলে নাম প্রকাশে অতিমাত্রায় ইচ্ছুক এক চিকিৎসাবিজ্ঞানী বলেন, 'ইটস আ পিওর বেঙ্গলী ভিটামিন'

তিনি আরো জানান, সপ্তাহে চারদিনের বেশি যারা প্রতিদিন অন্তত দুইশ গ্রাম রাস্তার খাবার খায়, তাদের ক্যান্সার ছাড়াও ডায়রিয়া, কলেরা, নিউমোনিয়া এবং বিভিন্ন মানসিক রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুকি কম থাকে। তাই তিনি সবাইকে প্রতিদিন ভাত, ডাল, মাছ, মাংস খাওয়ার পাশাপাশি বাড়তি হিসাবে নিয়ম করে রাস্তার খাবার গ্রহণের পরামর্শ দেন।

 

মজবুত দাঁত গঠনে চকলেট

আপনার টুথপেস্টে কি চকলেট আর চুইংগাম আছে? যদি না থাকে তাহলে আজই বদলে ফেলুন আপনার বাসার টুথপেস্টটি। কারন নুন বা নিমের চাইতেও চকলেট আর চুইংগাম আপনার দাঁতের জন্য বেশিমাত্রায় উপকারী! আর এমনটাই দাবি করে সম্প্রতি একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছে ডেন্টিষ্টদের আন্তর্জাতিক সংগঠন, ওয়াল্ড টিথ অর্গানাইজেশন বা সংক্ষেপে ওটো। তাদের বিবৃতিতে আরো বলা হয়- ক্যাভিটি, দাঁত শিরশির করা বা দাত থেকে রক্ত পড়া আজকাল একটা বড় ধরনের সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে যা প্রতি ঘরে ঘরে দেখা যাচ্ছে। তবে শিশুকে ছোটবেলা থেকেই বেশি বেশি চকলেট আর চুইংগাম খাওয়ানোর মাধ্যমে এই প্রবলেম শুরু হওয়ার পুর্বেই অনেকাংশে প্রতিরোধ করা সম্ভব বলেও তারা জানায়। তাহলে আর চিন্তা কি? এখন থেকেই সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলুন আর নিজে বেশি করে চকলেট খান এবং সবাইকে চকলেট খেতে উৎসাহিত করার মাধ্যমে আপনার এবং আপনার পরিবারের দাতের সুরক্ষা নিশ্চিত করুন। কারন কথায় আছে দাঁত থাকতে দাঁতের মর্যাদা দিন। আর কে না জানে, চকলেটই আপনার দাঁতের সবচাইতে বড় শুভাকাঙ্ক্ষী।

সংবিধিবদ্ধ সতর্কীকরণঃ হাসি হৃদরোগের কারণ!

১২৬৩ পঠিত ... ১৭:৪৭, সেপ্টেম্বর ০৯, ২০১৮

আরও

পাঠকের মন্তব্য

 

ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।

আইডিয়া

গল্প

সঙবাদ

সাক্ষাৎকারকি

স্যাটায়ার


Top