যেভাবে একজন বাংলাদেশি সিআইএ ট্রেইনার হিসেবে নিয়োগ পেলেন

১৮১২পঠিত ...১৭:২৯, সেপ্টেম্বর ০৯, ২০১৮

সি.আই.এ এজেন্ট -১ : গুপ্তচর ধরা পড়ছে।
সি.আই.এ এজেন্ট -২ : হমম।
সি.আই.এ এজেন্ট -১ : ইন্টারোগেট শুরু করবো?
সি.আই.এ এজেন্ট -২ : ইয়াপ। ইশটার্ট।

এক ঘন্টা পর-

সি.আই.এ এজেন্ট -১ : গুপ্তচর খুবই টাফ।
সি.আই.এ এজেন্ট -২ : কেন
সি.আই.এ এজেন্ট -১ : এক ঘন্টা গরম রুমের ভিতরে আটকায় রাখছি।
সি.আই.এ এজেন্ট -২ : আউটপুট?
সি.আই.এ এজেন্ট -১ : নাই। মিচকা হাসি দিতাছে।
সি.আই.এ এজেন্ট -২ : নেক্সট লেভেলে যাও।

আধা ঘন্টা পর-

সি.আই.এ এজেন্ট -১ : কাহিনী খারাপ।
সি.আই.এ এজেন্ট -২ : কেন?
সি.আই.এ এজেন্ট -১ : ধুমাইয়া কেমিক্যাল মিশানো পানি তে চুবাইছি।
সি.আই.এ এজেন্ট -২ : আউটপুট?
সি.আই.এ এজেন্ট -১ : পানি থেকে উঠানোর পর এক গ্লাস ঐ পানি খাইতে চাইছে।
সি.আই.এ এজেন্ট -২ : নেক্সট লেভেল।

দুই ঘন্টা পর-

সি.আই.এ এজেন্ট -১ : টাফেস্ট এজেন্ট আই এভার সিন... অমানসিক ধৈর্য।
সি.আই.এ এজেন্ট -২ : কেন!
সি.আই.এ এজেন্ট -১ : মাথার কাছে একই প্রশ্ন কয়েক হাজার বার করলাম।
সি.আই.এ এজেন্ট -২ : দেন?
সি.আই.এ এজেন্ট -১ : পিটাইলাম। পায়ে চাপ দিলাম বুট দিয়ে। আঙুলে চাপ দিলাম। সারা রাত বাইরে জঙ্গলে মসকিউটোর ভিতরে ফেলে রাখছি। নো স্লিপ, নো বাথ। নো আউটপুট।
সি.আই.এ এজেন্ট -২ : নেক্সট লেভেল।

তিন ঘন্টা পর-

সি.আই.এ এজেন্ট -১ : হালা মানুষ না জানোয়ার?
সি.আই.এ এজেন্ট -২ : কেন?!!
সি.আই.এ এজেন্ট -১ : বললাম, তোমার বাবা মারা গেছে। তোমার পরিবার গায়েব। ব্লফ দিলাম অনেক। অনেক গুজবের কাহিনী শুনালাম। শুনে হাসে!
সি.আই.এ এজেন্ট -২ : তাকে আমার কাছে নিয়ে আসো।

সি.আই.এ এজেন্ট: তুমি কিভাবে নিজেকে এভাবে ট্রেইন করছো।
গুপ্তচর: লোল। আই এম ফ্রম বাংলাদেশ।
সি.আই.এ এজেন্ট: সো হোয়াট!!

গুপ্তচর: একঘন্টা গরমে ঘামা আমার কাছে পানিভাত, আমরা ৪৫ ডিগ্রি তাপমাত্রায় লোকাল বাসে নাক ডেকে ঘুমানো জাতি।

সি.আই.এ এজেন্ট : কিন্তু এই বিষাক্ত কেমিকেল রেসিসটেন্স কিভাবে হলা?

গুপ্তচরঃ আমরা ছোটবেলা থেকেই ফরমালিনে অভ্যস্ত। আমরা হেন কোন জিনিষ নাই যাতে ক্যামিকেল মিশাই না। চুন, ইটের গুড়া সব খেয়ে অভ্যস্ত। দুধ থেকে মদ সব কিছুতে আমরা ভেজাল মিশাই। প্লাস্টিকের চাল, নকল ডিম খেয়ে সব হজম হয়। আমরা মনে হয় ফরমালিনেও ভেজাল মিশাবো কিছুদিন পর।

সি.আই.এ এজেন্ট : অপরিসীম ধৈর্য?
গুপ্তচরঃ ধৈর্য ব্রেক করার জন্য একই প্রশ্ন করা? আমরা উত্তরা থেকে ধানমন্ডি পৌছাই সাড়ে তিন ঘন্টার জ্যামে।

সি.আই.এ এজেন্ট : শারীরিক যন্ত্রনা?

গুপ্তচরঃ আমি তুরাগ এবং ছয় নম্বর বাসের নিয়মিত যাত্রী। বুটের গুতা কিংবা কনুই এর গুতা ইভেন বাসের হাতল ধরতে গিয়া উষ্টা খাইয়া রাস্তায় প্রায় অন্য গাড়ির চাক্কার নীচে পড়া অহরহ। দুই তিন ঘন্টা জ্যামে বাসে দাড়ায় থাকা ওয়ান টুর মামলা। মাঝে মধ্যে পায়ের উপর দিয়া রিকশা সিএনজি যায়।

সি.আই.এ এজেন্ট : ভয়ানক কীট পতঙ্গ?

গুপ্তচর: আমার রান্নাঘরে গেলে বুঝবা। তেলাপোকা কাকে বলে। আর মশার ভিতরে ফেলে রেখে আমাকে আবেগতাড়িত করে ফেলেছো। আমার তখন দেশের কথা মনে পড়েছে।

তোমাদের এক এজেন্ট বারবার নৃশংসতার হুমকি দিতেছিলো। সকালে আমাদের চোখের সামনে মানুষ মরে, বিকালে আমরা সিনেপ্লেক্সে মুভি দেখি।

সি.আই.এ এজেন্ট : মিথ্যে ব্লাফ দিলাম যে?
গুপ্তচর: গুজব শুনতে শুনতে কোনটা ব্লাফ আর কোনটা রিয়েল বুঝে গেছি। আমরা চাঁদে সাঈদিকে দেখি। ব্রিজ বানাতে আমাদের মানুষ বলি দেয়ার গুজব চালু আছে। সো, এইগুলা ব্যাপার না।

সি.আই.এ এজেন্ট: হু আর ইউ রিয়েললি
- সাধারণ বাংলাদেশি। যাকে তোমরা গুপ্তচর ভেবে ভুল করেছো।
সি.আই.এ এজেন্ট: ফিল আপ দিস ফর্ম।
- কিসের ফর্ম?
সি.আই.এ এজেন্ট: তোমারে আজ থিকা সিআইএ'র ট্রেইনার হিসাবে নিয়োগ দিলাম।

১৮১২পঠিত ...১৭:২৯, সেপ্টেম্বর ০৯, ২০১৮

আরও

পাঠকের মন্তব্য

 

    ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

    আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
    আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।

    আইডিয়া

    গল্প

    সঙবাদ

    সাক্ষাৎকারকি

    স্যাটায়ার

    
    Top