রবীন্দ্রনাথের 'শেষের কবিতা' উপন্যাসটি যদি কাশেম বিন আবুবাকার লিখতেন, যেমন হত গল্পের বর্ণনা

২৭৯৪পঠিত ...২১:৪৫, মে ০৮, ২০১৮

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সবচেয়ে পাঠকপ্রিয় উপন্যাসের তালিকা করা কঠিন। কিঞ্চিৎ অসম্ভবও বটে। কিন্তু তবুও যদি তা করতেই হয়, 'শেষের কবিতা'র নামটা তাতে না থাকার কোনো সম্ভাবনাই নেই! রবীন্দ্রনাথের লেখা অসাধারণ এই প্রেমের উপন্যাসে অমিত এবং লাবণ্যর চরিত্র এবং তাদের সম্পর্কের চিত্রায়ন সাহিত্যজগতে পেয়েছে মহাকাব্যিক অবস্থান। কিন্তু, একবার, একটাবার ভাবুন, হালের আলোচিত 'সাহিত্যিক' কাশেম বিন আবুবাকার লিখলেন শেষের কবিতা। বদলে গেল বর্ণনাভঙ্গী, বদলে গেল চরিত্রগুলো, উপন্যাসদের নামসহ বদলে গেল নায়ক-নায়িকার সম্পর্কে রূপটিও। কেমন হত শেষের কবিতা যদি তা লিখতেন কাশেম বিন আবুবাকার? এখানে শেষের কবিতার পঞ্চম অধ্যায়টি (আলাপের আরম্ভ) কাশেম বিন আবুবাকারের বর্ণনাভঙ্গীতে 'কাশেমাইজড' করার একটি চেষ্টা চালানো হয়েছে মাত্র!

 

 

শেষের নিকাহ 

কাশেম বিন আবুবাকার

পঞ্চম অধ্যায়

লাবণ্য পড়বার ঘরে অমিতকে বসিয়ে রেখে ভালো করে ঘরের পর্দা টেনে দিলো। যোগমায়াকে খবর দিতে গেল সে। পড়ার ঘরে বসে অমিত যেন খুব খুব পবিত্র একটা অনুভূতি পেল, যেন পুরো ঘরটাতে কে যেন আগরবাতির স্নিগ্ধতা ছড়িয়ে দিয়ে গেছে। অমিত যেদিকেই তাকায়, সেদিকেই লাবণ্যের খোদাভীতি আর সতীত্বের ছাপ। শেলফে পড়বার টেবিলে দেখা গেল কয়েকটি ধর্মীয় বই, দু তিনটে নূরানী নামায শিক্ষা। সব লাবন্যর পড়া বই, তাঁর আঙুলে পাতা ওলটানো তার দিনরাত্রির ভাবনা-লাগা, তার উৎসুক দৃষ্টির-পথ-চলা, তার আঙুলে তার অন্যমনস্ক দিনে কোলের উপর পড়ে থাকা বই। অমিত একবার ভাবলো লাবণ্যর ছোঁয়া লাগা বইগুলো একটু ছুঁয়ে দেখবে, পরমুহুর্তেই নিজেকে সামলে নিলো। বিবাহের পূর্বে এভাবে ইনডিরেক্ট ছোঁয়াছুঁয়িরও অনুমতি নেই। এমন খেয়াল আসায় অমিত মনে মনে একবার বললো, 'আসতাকফিরুল্লাহ'!

দেয়ালে বিভিন্ন দোয়া লেখা। বিয়ের আগ পর্যন্ত নিজেকে সামলানোর দোয়া, প্রেম এবং বেগানার পুরুষের প্রতি অনৈতিক অনুভূতির মত শয়তানি আছর থেকে নিজেকে মুক্ত রাখা। চমকে উঠল যখন টেবিলে সে দেখতে পেলো আরও একটা বই, কাশেম বিন আবুবাকারের ফুটন্ত গোলাপ! অক্সফোর্ডে থাকতে কাশেম সাহেবের স্নিগ্ধ প্রেমময় লেখনীই ছিল অমিতের প্রধান আলোচ্য, এইখানে এই মহাকাব্যিক উপন্যাসে দুজনের মন এক জায়গায় এসে পরস্পরকে স্পর্শ করল। অমিত এই স্পর্শের কথা ভেবেও একবার মনে মনে বললো, আসতাকফিরুল্লাহ!

এতদিনকার কায়দা-কানুনহীনতার দাগ লেগে অমিতের জীবনটা পুরো বেহায়া হয়ে গিয়েছিল, যেন ইমরান হাশমীর কোনো ইয়ে ধরণের মুভি। এখন সে এইমাত্র এসে পৌঁছল যেন জান্নাতুল ফেরদৌসে, এখানে যেন প্রতি মূহূর্তে শরীরে পবিত্র এক হাওয়া লাগে, আর মন থেকে উঠে আসে তিনটা শব্দ- কবুল, কবুল, কবুল! আর ওর এখানে ওখানে যে উত্তেজনার সঞ্চার হয় সেটা গাছের সর্বাঙ্গপ্রবাহিত রসের মধ্যে ফুল ফোটাবার উত্তেজনার মতো।

বেঁচে থাকার সহীহ কায়দা অমিত এতটাই ভুলে গিয়েছিল যে, যোগমায়া যখন ধীরে ধীরে পর্দার আড়াল থেকে গলা খাঁকারি ঘরে এসে প্রবেশ করলেন, সেই অতি সহজ ব্যাপারটাও আজ অমিতকে বিস্ময় লাগাল। সে মনে মনে বললে, 'মাশাল্লাহ!' চল্লিশের কাছাকাছি তাঁর বয়স, তবু সহীহ পর্দা করতে তিনি ভুলে যান নি। এই পড়ন্ত যৌবনও তাঁকে একজন আদর্শ নারীর কর্তব্য ভুলিয়ে দেয় নি, বরং করেছে আরও বিশুদ্ধ, আদর্শ একজন নারী!

পর্দার আড়াল থেকেও অমিত বুঝতে পারলো, তাঁর হলেও হতে পারে শ্বাশুড়ি আম্মার গৌরবর্ণ মুখ টসটস করছে। একটু যে ছায়ার মত দেখা যাচ্ছে, তাতেই বোঝা যায় যে তার চুল ঢাকা, নূরানী ভাবে পূর্ণ প্রসন্ন চোখ; হাসিটি যেন আরবের ফোয়ারা। মোটা থান চাদরে মাথা বেস্টন করে সমস- দেহ সমবত। হাতেও হাত মোজা পরা, পায়ে এই গরমেও পরে রেখেছেন মোটা কাপড়ের জুতো। অমিত তাকে আসসালামু আলাইকুম বলে সালাম দিতেই সালামের উত্তরে টের পেলেন, যোগমায়ার মায়ের মত মনে অমিতের জন্য খোদার কাছে দোয়া প্রার্থনার ধারা বয়ে গেল।

প্রথমে বাবা-মায়ের নাম এবং বংশ পরিচয় জানার পরে যোগমায়া বললেন, ‘তোমার কাকা ছিলেন আমাদের জেলার সব চেয়ে বুজুর্গ ব্যক্তি। একবার এক সর্বনেশে মকদ্দমায় আমরা ফতুর হতে বসেছিলুম, তিনি আমাদের বাঁচিয়ে দিয়েছেন। উনার পড়া পানি দিয়ে গোসল করেই আমরা মোকদ্দমা জিতে গেলাম। আমাকে উনি ডাকতেন ধর্মের বোন, ঠিক যেন শামীম ওসমান আর আইভির মত ব্যাপার!' এটুক বলে যোগমায়া হু হু করে কেঁদে উঠলেন। অমিত আরও মুগ্ধ হলো, ধর্মের ভাইয়ের প্রতি এমন বিশুদ্ধ আবেগ আজকাল নারীদের মধ্যে দেখা যায় না। অমিত মনে মনে আরও একবার শুকরিয়া করলো।

অমিত বললে,‘আমি তাঁর নাফরমান ভাতিজা। কাকা সহীহ পন্থায় জীবনযাপন করে বংশের ইজ্জত বাঁচিয়েছেন, আমি বেহায়াপনা করে ইজ্জত ডুবিয়েছি। আপনি ছিলেন উনার ধর্মের বোন, আর আমার হবেন ফেডাপ ধরণের খালাম্মা!' এই বলে অমিত একটু হাসলো, পরে তার মনে পড়লো, ঠিক হচ্ছে না। বেগানা নারীর সামনে উচ্চস্বরে হাসা ঠিক না, খালাম্মা হোক আর যাই হোক!  

যোগমায়া যেন কন্ঠে মায়ের মমতা নিয়ে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘তোমার মা আছেন।’ অমিত বললে,‘ছিলেন। খালাম্মা থাকাও খুব উচিত ছিল।’ ‘খালাম্মার জন্যে আফসোস কেন বাবা? খোদা যখন দেন নি, নিশ্চয়ই ভালোর জন্যই দেন নি।’ অমিত বললে, ‘ভেবে দেখুন না, আজ যদি ভাঙত আপনার মত একটা লাইনে থাকা খালাম্মা থাকত, আমি এমন বেহায়া হতে পারতাম না, বেগানা নারীদের সাথে ইনবক্সে লাভ ইমো স্টিকার এসব দিতে পারতাম না। এসব দিলেই থাপড়ে আমাকেও লাইনে নিয়ে আসতো!'

 

যোগমায়াও আরেকটু হলেই হেসে ফেলেছিলেন, কিন্তু তিনিও পরপুরুষের সামনে হাসা ঠিক না ভেবে মনে মনে হাসির উদ্রেক হওয়ার জন্য ক্ষমা চাইলেন। বললেন,‘খোদার ইচ্ছা হলে এখনও তোমাকে মেরে ধরে লাইনে আনা যাবে!' অমিত লাফিয়ে উঠে যোগমায়ার পায়ের ধুলো নিতে চেয়েছিলে, পরে তার মনে পড়লো, এইটা রবীন্দ্রনাথের না, কাশেম বিন আবুবাকারের উপন্যাস। তাই সে আরও একবার পূর্ণ সালাম দিয়ে সেই উত্তেজনা সামলে নিলো! বললো, ‘এই জন্যেই তো খোদা যা করেন ভালোর জন্যই করেন তা সবসময় মানতে হয়। খোদার কৃপায় মায়ের কোলে জন্মেছি, একটা খালাম্মা যেন পাই এমন দোয়ায় কখনোই হাত তুলি নি, বেহায়াপনা করে জীবন কাটাচ্ছি, কোনো সৎকর্মও করি নি! অথচ তিনি মায়ের মত এক খালাম্মাকে মিলিয়ে দিলেন। সকল প্রশংসা তাঁরই।'

যোগমায়া লাবণ্যের দিকে আড়চোখে চেয়ে একটু নীরবে হাসলেন। অমিতের সঙ্গে আলাপ হতে না হতেই তিনি ঠিক করে ফেলেছেন, এমন পূন্যবান সচ্চরিত্র খোদাভীরু ছেলেই তিনি লাবণ্যর জন্য খুঁজছিলেন, দুজনের বিয়ে হওয়া চাই। সেইটের প্রতি লক্ষ করেই বললেন,‘বাবা, তোমরা দুজনে ততক্ষণে পর্দার আড়াল থেকে আলাপ করো, আমি এখানে তোমার খাওয়ার বন্দোবস্ত করে আসি গে।

ফেসবুকে অনেক ফেক আইডির সঙ্গে চ্যাট করে করে দ্রুত তালে আলাপ জমাবার ক্ষমতা হয়েছে অমিতের। ফেক আইডির সঙ্গে, কারন আসল আইডিরা নারী হয়, যেহেতু ফেক আইডিরা নারী নয়, সেহেতু আলাপ করা যেতে পারে। লাবণ্য পর্দার আড়ালে দাঁড়িয়ে আছে। এমন পর্দানশীন একটা মেয়ে, তবু অমিত তার রূপ-লাবণ্যের সবটা যেন টের পাচ্ছে। আলাপ জমাবার ক্ষমতা সে একেবারে ঝাড়া শুরু করে দিল, ‘খালাম্মা আমাদের আলাপ করবার আদেশ করেছেন। খালাম্মার আদেশ হলো মায়ের আদেশের মত। তা পালন করা আমার দায়িত্ব বলেই তোমার সঙ্গে আলাপ জমাতে হচ্ছে।' লাবণ্য যেন এ কথা শুনে খুশিই হলো। যারা খোদার আদেশ মেনে চলে, লাবণ্যর তাদেরকে বড় ভালো লাগে। অন্যরকম একটা ফিলিংস কাজ করে এমন কারও প্রতি! লাবণ্য ভেতরে ভেতরেই লজ্জা পেয়ে দেবদাসের পারোর মত বলে উঠলো, 'ইশ!'

অমিত সহীহ উপায়ের আলাপ চালিয়ে গেল, 'আলাপের আদিতে হলো নাম। প্রথমেই সেটা পাকা করে নেওয়া উচিত। আপনি আমার নাম জানেন তো? ইংরেজি ব্যাকরণে যাকে বলে প্রপার নেম।’ লাবণ্য বললে, ‘আমি তো জানি আপনার নামা অমিত হাসান। হিট চিত্রনায়ক অমিত হাসানের নামে নাম।’ ‘

ওটা সব ক্ষেত্রে চলে না’। লাবণ্য হেসে বললে, ‘ক্ষেত্র অনেক থাকতে পারে, কিন্তু খোদা আপনার যে নাম হবে বলে ঠিক করেছেন, সেটিকেই তো নাম হিসেবে গ্রহণ করতে হবে!'

 

অমিতের মনটা আনন্দে নেচে উঠলো! কাশেম বিন আবু বাকারের উপন্যাস না হয়ে এটা হুমায়ূন আহমেদের উপন্যাস হলে সে মনে মনে বলেই ফেলতো, 'আইসসালা!' এমন একটা সহীহ লাইনের মেয়েই তো খুঁজছিলো সে। চ্যাট করতেও ভাল্লাগে টাইপ মেয়ে না, নিকাহ করা যায় এমন মেয়ে।

অমিত তবু ফর্মে থাকার জন্য গম্ভীর ভঙ্গীতে জ্ঞান ফলানো শুরু করলো। মেয়েটা একদম পুরাপুরি লাইনে আছে কিনা পরীক্ষা করার জন্য বললো, ‘আপনি যে কথাটা বলছেন ওটা একালের নয়। দেশে কালে পাত্রে ভেদ আছে অথচ নামে নেই, এটা অবৈজ্ঞানিক। এখন মানুষের ফেসবুক এক নাম, এক গার্লফ্রেন্ডের কাছে এক নাম, আরেক গার্লফ্রেন্ডের কাছে আরেক নাম! একজনের মুখে বাবু, একজনের মুখে জানু! কতরকম! তবে তার গোড়াতেই জানাতে চাই, আপনার মুখে আমার নাম অমিত হাসান নয়।'

লাবণ্য প্রতিবাদ করলো কথার, 'দেখুন, একেক জায়গায় একেক নাম দিলেই তা আসল নাম হয়ে যায় না। শেষ বিচারের দিন আমাদের যে নাম ধরে ডাকা হবে, সেটাই আসল নাম।' অমিত এ কথা শুনে প্রেমে পুরো লাড্ডু হয়ে গেল। একবার শুধু বিড়বিড় করে বললো, 'মাশাল্লাহ!' লাবণ্য জিজ্ঞেস করলে, 'আপনার কি ধর্মকর্ম ভালো লাগে না? সাহেবি কায়দা ভালোবাসেন? মিস্টার হাসান?' 'একেবারে নিজেদের সঠিক পরিচয়ের ওপারের নাম এটা, দূরের নাম। যেই নামে আমার ধর্ম টের পাওয়া যায় না, সেই নাম কি কানের সদর থেকে মনের অন্দরে পৌঁছতে পারে?’

‘অন্দরে যাওয়ার নামটা কী শুনি।’ লাবণ্য একবার ঠোঁট কামড়ে জিজ্ঞেস করলো।

‘বেগ দ্রুত করতে গেলে 'হাসান'টা ফেলে দিলেও হবে না। অমিতটাও ফেলে দিতে হবে। আমাকে ডাকতে হবে, 'ওজ্ঞো', যেমনটা মোস্ট ওয়েলকাম টু তে বর্ষা ডেকেছিল অনন্তকে!’

লাবণ্য বললে,‘হায় খোদা! এখনও তো আমাদের নিকাহ হয় নি। নিকাহর পূর্বে পরপুরুষকে ওগো, ওজ্ঞো, এগুলো বলার কোনো নিয়ম নেই! সহজ নয়, নিকাহর পরেও সময় লাগবে।' লাবণ্য বললো ঠিকই, কিন্তু তাঁর ভেতর থেকে কে যেন ডেকে উঠলো, ওজ্ঞো! কোথায় কোথায় যেন অদ্ভুত শিহরণ খেলে গেলো!

লাবণ্য উঠে দাঁড়িয়ে বললে, 'আছর ওয়াক্ত হয়ে গেল, আপনার ওযুর পানি ঠান্ডা হয়ে আসছে।’

‘ঠান্ডা পানি শিরোধার্য করে নেব, যদি আলাপটাকে আরো একটু সময় দেন।’

‘ওয়াক্ত আর বেশিক্ষন নেই। জলসি করুন।' বলেই লাবণ্য চলে গেল। অমিত তখনই ওযু করতে গেল না। পর্দার আড়ালে সে কেবল ছায়াটাই দেখেছে, অথচ স্মিতহাস্যমিশ্রিত প্রত্যেক কথাটি লাবণ্যর ঠোঁটদুটির কেমন রূপ ধারণ করেছিল, তা যেন সে পরিষ্কার দেখতে পেয়েছে। বসে বসে সেইটি মনে করেই সে কেমন কেমন অনুভব করতে লাগলো। অমিত অনেক সুন্দরী মেয়ে দেখেছে, তাদের সঙ্গে ইনবক্সে চ্যাট করেছে, কিন্তু তাদের সৌন্দর্য বেহায়া নারীদের মত, উজ্জ্বল অথচ আচ্ছন্ন; লাবণ্যর সৌন্দর্য যেন হুরের মত, দেখতেই মনটা পবিত্রতায় ভরে যায়। তাকে মেয়ে করে গড়বার সময় খোদা তার মধ্যে একটা বিল্ট ইন পবিত্রতা এবং বিশুদ্ধতা মিশিয়ে দিয়েছেন, চাইলেও সে বেলাইনে যেতে পারবে না! এইটেতেই অমিতকে এত করে আকর্ষণ করেছে। অমিত তাকে যতবারই দেখেছে, শুধু এটাই ভেবেছে বারবার, দুইটি ব্যর্থ নিকাহর পর শেষের নিকাহটা সে এমন লাইনে থাকা সহীহ নারীকেই করতে চায়!

২৭৯৪পঠিত ...২১:৪৫, মে ০৮, ২০১৮

আরও

পাঠকের মন্তব্য

 

    ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

    আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
    আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।

    আইডিয়া

    গল্প

    সঙবাদ

    সাক্ষাৎকারকি

    স্যাটায়ার

    
    Top