রবীন্দ্রনাথ যদি ঢাকার মিরপুরে থাকতেন

২৩০৩পঠিত ...২১:০৮, মে ০৮, ২০১৮

কোনো এক মে মাসের ৮ তারিখ বৃষ্টিমুখর রাতে রবীন্দ্রনাথ রেইনকোট পরে ঘর ছেড়ে বের হয়ে গেলেন।

গ্যারেজ থেকে বাইকটা বের করে মনের আনন্দে সোজা টান দিলেন। সঙ্গে আর কিছু নিলেন না, শুধু লালন ব্যান্ডের ভোকালিস্টের ছবি সংবলিত একটা ব্যাকপ্যাক। মনের ভুলে হেলমেটটা ফেলে এসেছেন। সে যাকগে, একজন কবির মনের ভুল হতেই পারে। রবীন্দ্রনাথ তাই বিচলিত হলেন না। আপাতত তিনি ভাবছেন, তিনি আর ঘরে ফিরে যাবেন না। ডি ইউনিটে টেকার পরও ল তে চান্স না পাওয়ায় বাসায় যে 'কাইজ্যাটা হইলো'! এরপর আর বাসায় থাকার কোনো মানে হয় না। বড় ভাইরা সব বুয়েট মেডিকেল আইবিএতে পড়ছে... এজন্য তাকে কেন ল পড়তে হবে?

অলংকরণ: সামির

রবীন্দ্রনাথ অভিমানে গিয়ার চাপ দিয়ে স্পিড ক্রমশ বাড়িয়ে দিলেন। তাতে বিশেষ লাভ হলো না। মিরপুর ১০ নম্বর গোলচক্করের দীর্ঘ জ্যাম দেখে তিনি সামান্য বিচলিত হলেন। এই মুহুর্তে তাঁর হাতিরঝিলে বসে কিছুক্ষণ বৃষ্টি দেখা দরকার। রাস্তায় তো গাড়ি আগায়ই না!

রবীন্দ্রনাথ বাইক ঘুরালেন, ষাট ফিটের ভেতর দিয়ে যাওয়া লাগবে। তাড়াহুড়া করে বুটজুতো পরতে ভুলে গেছেন, জুতোটা থাকলে সমুদ্রসমান পানির ভেতরে কোনো রকম নৌকাডুবির কোনো আশঙ্কা থাকতো না! সকাল থেকেই বৃষ্টি... রাস্তাঘাট অলিগলি কিছু আর রাস্তা নেই, 'আমাদের ছোট নদী' হয়ে গেছে। তিনি গুনগুন করলেন, 'আমাদের ছোট গলি চলে আঁকেবাঁকে, বৈশাখ মাসে তার হাঁটু জল থাকে...'!

সে সময়ই হুট করে মোবাইলে ভাইব্রেশন। ব্রেক কষে ফোন দেখতেই নিজের পার্ট টাইম 'খাটাও' রাইডার পরিচয়টা তাঁর সামনে প্রকট হয়ে উঠলো। তিনি অত্যন্ত বিরক্ত হলেন, আর কখনোই আগের মতো খাটাও চালাবেন না বলে মনস্থির করলেন।

আগে নিতান্তই পকেটমানির জন্য 'খাটাও' মাঝেমধ্যে চালাতেন সেটা ঠিক আছে। এখন কোনো ভালো পত্রিকায় চাকরির জন্য চেষ্টা করবেন, কুবের-খাটাও এইসব আর চালাবেন না। তাছাড়া নিজের বাইককে তিনি বিশেষ 'স্নেহ' করেন। নিজের বাইককে তিনি ডাকেন, 'সোনার তরী'। ঢাকার খানাখন্দের নদী মহাসাগরেও এই দ্বিচক্রযান যে সার্ভিস দিয়ে গেছে, তার জন্যই নাকি এমন সম্মান!

অলংকরণ: সামির

খাটাও আর চালাবেন না বলে ঠিক করলেও, তিনি নতুন রিকোয়েস্টটা এক্সেপ্ট করবেন বলে ভাবলেন। কে খুঁজছে রাইডার, নামের দিকে তাকিয়ে বেশ ইন্টারেস্টিং লাগলো তার... দারুণ নাম তো! কাদম্বরী! এই সময়ে এমন ক্লাসিক টাইপ নাম তিনি ভাবতেন তার একারই আছে!

রবীন্দ্রনাথ এক্সেপ্ট করতেই ওপাশ থেকে কল এলো। রবীন্দ্রনাথ ফোন ধরলেন, ওপাশ থেকে আওয়াজ এলো, 'হ্যালো, জ্যোতিরিন্দ্র... সরি, রবীন্দ্রনাথ ভাই, আপনি একটু দুই নাম্বার ওভারব্রিজের নিচে আসেন।'

রবীন্দ্রনাথ কিছু বললেন না। ফোন রেখে দিলেন। একবার ভাবলেন, যাই। এরপর সে সিদ্ধান্ত বদলে ফোন থেকে খাটাও আনইন্সটল করে দিলেন। ফোনও বন্ধ করলেন। এখন কোনো জিপিএস নেই... তিনি গুনগুন করলেন, 'কোথাও আমার হারিয়ে যাবার নেই মানা...'

২৩০৩পঠিত ...২১:০৮, মে ০৮, ২০১৮

আরও

পাঠকের মন্তব্য

 

    ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

    আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
    আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।

    আইডিয়া

    গল্প

    সঙবাদ

    সাক্ষাৎকারকি

    স্যাটায়ার

    
    Top