ইশতিয়াক আহমেদের 'গল্পে গল্পে সালতামামি ২০১৭'

২৮৮০পঠিত ...২১:১২, জানুয়ারি ০২, ২০১৮

চলে গেল ২০১৭। পালক না রেখে গেলেও রেখে গেল আমাদের প্রত্যেকের স্মৃতির ডিকশনারিতে নানান নতুন শব্দ। লেখক ও গীতিকার ইশতিয়াক আহমেদ এক গল্পেই লিখেছেন ২০১৭ সালের সালতামামি! eআরকি পাঠকরা গল্পে গল্পে ২০১৭ তে ঘুরে আসার সুযোগ পাচ্ছেন আরও একবার!

অলংকরণ: মোরশেদ মিশু

আমার চিকুনগুনিয়া হয় নাই। হয়েছিলো লাবু ভাইয়ের। লাবু ভাইয়ের সাথে দেখা হয়েছিলো এয়ারপোর্টে। মানুষ স্বর্ণ নিয়ে এয়ারপোর্ট দিয়ে পালায়, লাবু ভাই পালালেন চিকুনগুনিয়া নিয়ে। আমাদের গন্তব্য ছিলো ভারত।

ভারতের মাটিতে আমাদের লোকাল অসুখ নিয়ে এসে বেশ গর্ববোধ হচ্ছিল। লাবু ভাইকে সামনে রেখে আমি আর মুমেন ভাই চলছিলাম কলকাতার মাটি দাবড়ে। কিন্তু গাড়িতে চলতে সমস্যা হচ্ছিলো। গাড়িতে উঠলে কলকাতার হালকা জ্যাম দেশের ভারী জ্যামকে মনে করিয়ে দেয়। চিকুনগুণিয়া যেমন আমাদের নিজস্ব ছিলো, জ্যামকেও নিজস্ব ভাবি। যেমন একান্ত নিজস্ব আহসান হাবীব পেয়ার। যে ঘুমালে তার হিসেব থাকে না। সবকিছুকে এডিট করা বলে মনে হয়।

সব তো আর এডিট করা যায় না। কিছু কিছু করা যায়। তবে এ বছর সবচেয়ে বড় এডিটটি হয়েছে সুন্দরী প্রতিযোগিতায়। বিশ্ব সুন্দরী মিস বাংলাদেশ হয়ে গিয়েছিলেন, এভ্রিল নামক জনৈক শ্রীমতি। আমরা যখন তাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখছিলাম তিনি আমাদের মুকুটে ভাসিয়ে দেবেন, তখন জানলাম তিনি আসলে সঠিকভাবে নির্বাচিত হননি।

এখানেও প্রশ্ন ফাঁস হয়েছিলো। শিক্ষামন্ত্রী বলেছেন ৬১ সাল থেকে প্রশ্ন ফাঁস হয়। কিন্তু সুন্দরীদের নিয়ে এই ফাঁস আমরা মেনে নিলাম না। আমরা মুকুট ফেরত দিলাম আরেক মহাত্মা রমণী জেসিয়া ইসলামকে।

কিন্তু তিনি ৪০ জনের মধ্যে স্থান নিয়ে খুব একটা কিছু এনে দিতে পারলেন না। আমরা হতাশ হয়ে গেলাম। আমার তার মুকুট ফেরত দিলাম মেয়েটা কিছুই দিতে পারলো না আমাদের।
জেসিয়া ব্যর্থতা ঢাকতে এসেছিলো সোফিয়া। গুছিয়ে কথা বলে চমকে দিয়েছিলো রোবট মেয়েটা। কী দারুণ করে প্রধানমন্ত্রীকে চিনে ফেলেছে। সবার সাথে কথা বলে হাসি হাসি মুখ করে।
অথচ আমরা অতো হেসে হেসে কথা বলতে পারিনা। আমাদের চারপাশে সব মন খারাপের গল্প। শাকিব অপুর বিচ্ছেদ, তাহসান মিথিলার একে অপরকে ছেড়ে যাওয়া, হামিম শাফিনের আলাদা হয়ে যাওয়াসহ অনেক মন খারাপ করা নিউজ।

আমরা ডুব দিতে চেয়েছিলাম। ডুবও ঠিকমতো দেয়া যায় না। ডুব না দেখে নেগেটিভ রিভিউ দেয়ার ধাক্কা নেয়া কঠিন। আমাদের নেগেটিভ রিভিওর কালচার খুব ভয়ানক। তা শুধু সিনেমায় সীমাবদ্ধ ছিলো না। তা রুপালীর পর্দা থেকে ঘরের জানালার পর্দা ভেদ করে ঘরেও ঢুকে যায়। যেমন ঢুকেছিলো ক্রিকেটার তাসকিনের বাসায়। তার স্ত্রী নিয়ে। তার স্ত্রী এমন, ওমন আরও কত কিছু। অথচ আমরা একবারও ভাবিনা যে মানুষটি তাকে বিয়ে করেছে তার পছন্দই শেষ কথা। যা দেখা যাচ্ছে, আগামীতে কোনও সেলেব্রিটির বিয়ে করতে আগে জনমত যাচাই করে নিতে হবে।
খুব দুঃখজনক।

রোহিঙ্গাদের ঠেলে এদেশে দেওয়ার মতো দুঃখজনক। ১২ টাকা হালি ডিম বিক্রির কথা বলে মানুষের আগ্রহ নিয়ে খেলার মতো দুঃখজনক। নেইমারের চলে যাওয়ার মতো দুঃখজনক। ঈদকে ইদ লেখার মতো দুঃখজনক। রোনালদোর নিজেকে সর্বকালের সেরা বলার মতো দুঃখজনক।

এতো দুঃখ কাটাতে আমাদের জন্য কেউ আসেনা। কেবল দুজন আসেন। মাহফুজুর রহমান আসেন তার গানের ডালি নিয়ে। কেকা ফেরদৌসি আসেন তার রান্নার হাড়ি নিয়ে।

আমরা মন খুলে বিনোদিত হই। ভালো লাগে। অন্যরকম ভালো লাগা। তামিমের সেঞ্চুরির মতো ভালো লাগে। মেসির গোলের মতো ভালো লাগে।

এমন বিনোদন সব দেশে আসে না। এমন বিনোদন কেউ নিতেও পারেনা সহজে। যেমন পারেনি সুবোধ। সে কেবলই পালিয়ে যায়।

আমি সুবোধকে খুঁজি। পালাতে না করি। বলি, সুবোধ পালানোর আগে অন্তত ফোন নাম্বারটি দিয়ে যেও ভাই...

২৮৮০পঠিত ...২১:১২, জানুয়ারি ০২, ২০১৮

আরও

পাঠকের মন্তব্য

 

    ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

    আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
    আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।

    আইডিয়া

    গল্প

    সঙবাদ

    সাক্ষাৎকারকি

    স্যাটায়ার

    
    Top